ফিফা বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। তবে মাঠের রোমাঞ্চের পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও বড়সড় প্রভাব ফেলেছে বলে উঠে এসেছে একাধিক সমীক্ষায়।
2
12
কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি, দেরিতে অফিসে পৌঁছনো, আগেভাগে বেরিয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার মত ঘটনায় দেশটির উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
3
12
মানবসম্পদ সফটওয়্যার সংস্থার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উৎপাদনশীলতার ক্ষতি হতে পারে। আর বিশ্বব্যাপী এই ক্ষতির পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
4
12
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালীন লক্ষ লক্ষ কর্মী ম্যাচ দেখার জন্য নিজেদের কাজের সময়সূচি বদলে ফেলেন। অনেকেই দেরিতে অফিসে পৌঁছেছেন, কেউ মাঝপথে কাজ ছেড়ে ম্যাচ দেখতে গিয়েছেন, আবার কেউ পুরো দিনই অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন সংস্থার দৈনন্দিন কাজকর্মে।
5
12
অফিস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রকাশিত তথ্য আরও চমকপ্রদ ছবি তুলে ধরেছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছিল ফাইনাল বা সেমিফাইনালের দিন নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ফুটবল দল বেলজিয়ামের কাছে শেষ ষোলো পর্বে বিদায় নেওয়ার পরের দিন। ৭ জুলাই, অর্থাৎ মার্কিন দলের বিদায়ের পরদিন অফিসে উপস্থিতির হার ২৬ শতাংশ কমে যায়।
6
12
সংস্থার দাবি, এই উপস্থিতি হ্রাস সুপার বোলের পরদিন অফিসে উপস্থিতি কমার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ছিল। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে মার্কিন দলের পারফরম্যান্স কর্মীদের কর্মজীবনে সুপার বোলের থেকেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
7
12
তবে কর্মীরা শুধু বাড়িতে বসে ছিলেন, এমনটা নয়। তথ্য অনুযায়ী, কর্মীদের অফিসে প্রবেশের হার কমেছে ১১.৫ শতাংশ, কিন্তু বাইরের দর্শনার্থী বা ক্লায়েন্ট, সাক্ষাৎকারপ্রার্থী এবং সরবরাহকারীদের উপস্থিতি কমেছে ৩২ শতাংশ।
8
12
অর্থাৎ, অনেক সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও ব্যবসায়িক সাক্ষাৎ পিছিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে অফিস খোলা থাকলেও স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা বজায় থাকেনি।
9
12
বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় মার্কিন দলের ম্যাচগুলিই কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল। দলটি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে অফিসে উপস্থিতি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে, যদিও তখনও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব চলছিল।
10
12
মজার বিষয় হল, যেসব শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজিত হয়েছিল, সেখানে ম্যাচের দিন অফিসে উপস্থিতি খুব একটা কমেনি। স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সেই প্রভাব অনেকটাই সামলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
11
12
তবে সিয়াটল ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের পরদিন সকালে অফিসে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই ঘটনাকে "হ্যাংওভার ইফেক্ট" বলে উল্লেখ করেছে।
12
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর সোমবার অফিসে কিছুটা প্রভাব পড়লেও তা এর মত বড় হবে না। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। তবুও এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, ক্রীড়া উন্মাদনা শুধু দর্শককেই নয়, একটি দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্কৃতিকেও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।