আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফর্মে ছিলেন না। টানা তিনটি ম্যাচ ডাক দেখেছিলেন। সুপার এইটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে তিনি একটু একটু করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে অভিষেক শর্মার ব্যাট কথা বলে। দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। 

সবাই ধরেই নিয়েছিলেন আইপিএলে অভিষেক চেনা ছন্দে ধরা দেবেন। কিন্তু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু  বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অভিষেক শর্মা রান পেলেন না। ৮ বলে সাত রান করে ফিরে গেলেন অভিষেক। একটা ছক্কা অবশ্য মেরেছিলেন। তবে সেই ইনিংস দীর্ঘায়িত হয়নি।

আরসিবি অভিষেক ঝড় থামানোর পরিকল্পনা করেই নেমেছিল। সেই মতো তাঁর শরীর লক্ষ্য করে বল করে গেলেন ডাফি ও ভুবনেশ্বর কুমার। ডাফির বলে বড় শট মারতে গিয়ে সময়ের গন্ডগোলে ক্যাচ তুলে ফিরে গেলেন অভিষেক। 

শনিবার শুরু হল আইপিএল-পক্ষ। এদিন টস জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ব্যাট করতে পাঠান রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পতিদার। কিন্তু জ্যাকব ডাফি একাই তিন-তিনটি উইকেট নিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চাপে ফেলে দিয়েছে। অথচ এই সানরাইজার্স শিবিরকে এবার সবাই বিপজ্জনক ধরেছিলেন। দলের রয়েছেন বিস্ফোরক সব ব্যাটার। পাওয়ারপ্লে-তে কত রান তুলতে পারে সানরাইজার্স তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। কিন্তু না অভিষেক শর্মা, না ট্র্যাভিস হেড জ্বলে উঠতে পারলেন না। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমির অভিষেককে স্লগার বলেছিলেন। তা নিয়ে কম সমালোচিত হননি আমির। আইপিএলের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্সের ওপেনার অভিষেক ব্যর্থ হতেই ক্রিকেটপ্রেমীরা বলতে শুরু করলেন স্লগার অভিষেকের দুর্বলতা আবার প্রকাশ্যে এসে গেল। বাঁ হাতি তারকা ওপেনারকে নিয়ে চলছে চর্চা।  

আইপিএল শুরুর আগে আকাশ চোপড়া বলেছিলেন, ওরা ২৫০ রান করলেও সেই রান তুলে নেবে প্রতিপক্ষ। 

প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিন উত্থাপ্পা বললেন, ব্যাটিং শক্তিশালী হলেও বোলিং দুর্বল। আর এই দুর্বল বোলিং কিন্তু সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে টুর্নামেন্ট জেতাতে পারবে না। তিনি আরও বলেছিলেন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বিনোদনের মশলা রয়েছে। দেখতে ভাল লাগে। কিন্তু শুধু ব্যাটিং জেতাতে পারবে না সানরাইজার্সকে। ওদের বোলিং অপেক্ষাকৃত দুর্বল। বোলাররাই ট্রফি জেতায়। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই অভিষেক, ট্র্যাভিস হেড, নীতীশ রেড্ডির মতো তারকারা এলেন আর গেলেন। 

তবে প্রথম ম্যাচ দেখেই 'গেল গেল' রব তোলার দরকার নেই। এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। অনেক ম্যাচ হাতে পাবেন অভিষেক শর্মারা। পরের ম্যাচগুলোয় অভিষেক-সহ বাকিদের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সবাই। শুরুতে অভিষেক-হেড ঝড় তুললে এই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে এ কথা বলাই বাহুল্য।