আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থান রয়্যালস জেদ্দার নিলাম কক্ষে ঢুকেছিল একটাই লক্ষ্য নিয়ে। ১০ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা ছিল কেবল একজনের জন্য। 

শেষ পর্যন্ত, রাজস্থান রয়্যালস মাত্র ১.১ কোটি টাকাতেই ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিভাবান কিশোরকে নিলামে কিনে নেয়। তিনি বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর জন্য প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতেই প্রস্তুত ছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। 

সমস্তিপুরের এই ১৩ বছরের ছেলেটি ইতিমধ্যেই নায়ক। তাঁর উপরেই পড়ছে প্রচারের সার্চলাইট। ব্যতিক্রমী প্রতিভা আজ নামছেন আইপিএলে। 

নিলামে একটি বিড ওঠার আগে রাজস্থান রয়্যালসের সিইও জেক লাশ ম্যাকক্রাম জানিয়েছিলেন যে এই তরুণকে নাগপুরে ফ্র্যাঞ্চাইজির হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁকে দেখে মুগ্ধ হন সবাই। বিহারের এক বিস্ময়কর প্রতিভা কীভাবে রাজস্থান রয়্যালসের আস্থা অর্জন করেছিল, এটা সেই গল্প। 

রাজস্থান রয়্যালস শুধু খ্যাতির উপরে ভরসা করে তরুণদের নেয় না, তারা পরীক্ষা করে। নাগপুরের সেই সেন্টারে বৈভবকে একটি ম্যাচের মতো পরিস্থিতি দেওয়া হয়েছিল। এক ওভারে ১৭ রান করতে হবে। বৈভব কেবল শুধু লক্ষ্য পূরণই করেননি। তিনটি ছক্কা মেরে সহজেই তা পেরিয়ে যান।

ট্রায়াল শেষে দেখা যায় বৈভব আটটি ছক্কা এবং চারটি চার মারেন। রাজস্থান রয়্যালস তখনই বুঝে যায়, এই ছেলেকেই তাঁদের চাই। ১০ কোটি টাকার বাজেট আলাদা করে রাখা হয়েছিল তাঁর জন্য। দিল্লি ক্যাপিটালসও বৈভবকে পাওয়ার জন্য একটা সময় লড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ১.১ কোটি টাকায় বৈভবকে দলে নেয় রাজস্থান। তাঁর বেস প্রাইস ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। 

স্কাউটরা অবশ্য সব জেনেই নাগপুরে আসেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বৈভব মাত্র ১২ বছর ২৮৪ দিন বয়সে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয়। শচীন  তেন্ডুলকর ও যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। দু'জনেরই ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। 

কয়েক মাস পর, চেন্নাইয়ে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে ৫৮ বলে একটি দুরন্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন বৈভব। ১৩ বছর ১৮৮ দিনে যুব ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি। 

গতবারের আইপিএলে বৈভব গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করেন। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালেও বৈভব সেঞ্চুরি হাঁকান। 
রাজস্থান রয়্যালস কেবল একজন প্রতিভাকে দলে নেয়নি। তারা এক বিস্ময়কে দলে নিয়েছে।