আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের সবথেকে নাটকীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হল রবি-রাতে। শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল। ছিল বিতর্ক।  সামির ছক্কায় ম্যাচ চলে গেল সুপার ওভারে। সেই রোমাঞ্চ ছড়িয়ে স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও লখনউ সুপার জায়ান্টস। 

শেষ ওভারে জেতার জন্য লখনউয়ের দরকার ছিল ১৭ রান। কেকেআরের বোলার কার্তিক ত্যাগীর হাতে বল তুলে দেন অজিঙ্কে রাহানে। 

অতীতে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে মাত্র চার রান করতে দেননি কার্তিক ত্যাগী। সেই কারণেই তাঁর হাতে বল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেই মনে করছেন অনেকে। 

তবে বল করার সময়ে অন্য ছবি ফুটে ওঠে। ত্যাগী  পরপর দু'টি ডেলিভারি  কোমরের উপরের উচ্চতায় করেন। নো বল ডাকেন আম্পায়ার। ডাগ আউটে বসে থাকা নাইটদের হেড কোচ অভিষেক নায়ার উদ্বিগ্ন হয়ে ইশারা করতে থাকেন বাঁ হাতি স্পিনার অনুকূল রায়কে বল করতে দেওয়া হোক। 

বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় রিঙ্কু সিংকেও। রবিবার ব্যাট হাতে রিঙ্কু দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। তিনি জ্বলে ওঠায় কেকেআর লড়াই করার মতো স্কোর করে। 

কার্তিক ত্যাগীর দুটো কোমরের উপরের উচ্চতায় করা ডেলিভারির পরে অনেকেই মনে করেন তাঁকে হয়তো আর বল করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু ফিল্ড আম্পায়াররা জানান, দ্বিতীয় নো বলটি বিপজ্জনক নয়। ফলে ত্যাগীর পুরো ওভার করতে সমস্যা নেই। 

আইপিএল-এর খেলার নিয়মাবলীর ধারা ৪১.৭.১ অনুযায়ী: যে কোনও বল, যা পিচে না পড়ে (ফুল টস হিসেবে) ক্রিজে দাঁড়ানো ব্যাটসম্যানের কোমরের উচ্চতার উপর দিয়ে যায় বা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেটিকে অন্যায্য বলে গণ্য করা হবে, তা সে আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করুক বা না-করুক। যদি বোলার সেই ধরনের বল করেন, তাহলে আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গে নো বল ডাকতে পারেন। 

যদিও ধারা ৪১.৭.৩ বলে, যদি আম্পায়ার মনে করেন যে কোনও নন পিচিং ডেলিভারি, অথবা একাধিক নন পিচিং ডেলিভারি, যা ৪১.৭.২ ধারা অনুযায়ী বিপজ্জনক, তাহলে আম্পায়ার স্কোরারদের উদ্দেশে নো বলের সংকেত পুনরায় দেবেন এবং তারপর বোলারকে সতর্ক করে জানাবেন যে এটি প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা। আম্পায়ার একই সঙ্গে অন্য আম্পায়ার, ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক এবং ব্যাটারকেও ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করবেন। এই সতর্কতা ওই বোলারের জন্য পুরো ইনিংস জুড়ে প্রযোজ্য থাকবে। 

কোমরের উপরের ফুলটস বল নো বল হলেও তা সবসময় বিপজ্জনক বলে  ধরা হয় না। যদি না আম্পায়ার সেটিকে বিপজ্জনক বলে মনে করেন। সেই কারণেই ত্যাগীকে ওভার শেষ করতে দেওয়া হয়। 

শেষ দিকে ম্যাচ হয়ে ওঠে আরও নাটকীয়। এলএসজির ব্যাটার মহম্মদ সামি শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিয়ে যান সুপার ওভারে।

তবে সুপার ওভারে এলএসজির কৌশল বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। ফর্ম হাতড়ে বেড়ানো নিকোলাস পুরানকে ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফেরে। সুনীল নারিন প্রথম বলে বোল্ড করেন নিকোলাস পুরানকে। পন্থ এসে এক রান নেন। পরের বলেই মার্করাম ফেরেন। ব্যাট করতে নেম রিঙ্কু সিং প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে কেকেআর-কে জেতান।