আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ আইপিএল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই আয়োজন করতে চায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। মরশুম শুরুর আগে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হল ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে।
জানা গিয়েছে, দর্শকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ৩০০ থেকে ৩৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে পাঠানো এক চিঠিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়েছে, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, লাইন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের পয়েন্টে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করে অনুমোদন ছাড়া প্রবেশ রুখে দেওয়া হবে।
আরসিবির মতে, হাইভোল্টেজ আইপিএল ম্যাচ ও অন্যান্য বড় ইভেন্ট নিরাপদ ভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পুণেতে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম আরসিবির হোম ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। মহারাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আরসিবি ও রাজস্থান রয়্যালসের প্রতিনিধিরা পুণের এমসিএ স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
অতীতে এই ভেন্যুতে সব ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে। ২০২৩ সালে পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ওমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জও অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ জুন আরসিবির প্রথম আইপিএল শিরোপা উদযাপনের সময় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর থেকে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম তীব্র সমালোচনার মুখে।
ওই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। এরপর একাধিক বড় ইভেন্ট আয়োজন থেকে বাদ পড়েছে চিন্নাস্বামী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওমেন্স ওয়ার্ল্ড কাপের ভেন্যুর তালিকা থেকেও স্টেডিয়ামটি বাদ পড়ে।
এমনকী, ২০২৬ সালে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ রাখা হয়নি চিন্নাস্বামীতে। আরসিবি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত রিয়েল-টাইম ভিডিও অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে হিংসা, অনুপ্রবেশ ও অনুমোদন ছাড়া প্রবেশের মতো ঘটনা শনাক্ত করবে।
যাতে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। পাশাপাশি ম্যাচ চলাকালীন আগাম সিদ্ধান্ত নিতে কার্যকর তথ্যও সরবরাহ করবে এই প্রযুক্তি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বক্তব্য, ‘এই উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে ভিড় দক্ষভাবে পরিচালনা, শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইন নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে সমর্থকদের সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সাহায্য করবে।’
জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি তৈরি করতে এককালীন খরচ হবে আনুমানিক ৪.৫ কোটি টাকা। যা সম্পূর্ণভাবে আরসিবি কর্তৃপক্ষ বহন করবে। এ জন্য তারা স্ট্যাকু নামের একটি প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছে।
যারা ভারতের একাধিক রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছে। স্ট্যাকুর সমাধানে ফেসিয়াল রিকগনিশন সহ ভিড়, পরিধি, যানবাহন ও নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।
এই উন্নত প্রযুক্তি ভিডিও, অডিও ও টেক্সট ও তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে সহায়তা করে। দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। রিয়েল-টাইম অ্যানালিসিসের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করাই এর লক্ষ্য।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে আরসিবির এই উদ্যোগকে ভাল চোখেই দেখছে ক্রিকেট মহল। কিন্তু আগামী মরশুম শুরুর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো এখনও বাকি আছে কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের।
