আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে শেষ তিনটি ম্যাচ জিততেই হত কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। তাই শনিবারের কলকাতা বনাম গুজরাট ম্যাচ কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই ছিল নাইটদের কাছে। আর সেই মহারণে দেখা গেল ফিন অ্যালেন ঝড়, দেখা গেল ছক্কার বৃষ্টি। কেকেআর ব্যাটাররা মিলিয়ে হাঁকালেন ২২টি ছক্কা।

এই ইডেনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৩ বলে শতরান করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছিটকে দিয়েছিলেনফিন অ্যালেন। শনিবারও সেই একই মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। ডু অর ডাই ম্যাচে মাত্র ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও, ৩৫ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে কেকেআরের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন অ্যালেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি ছক্কা ও ৪টি চার। মাত্র ২১ বলেই তুলে নেন অর্ধশতরান।

টস জিতে প্রথমে কেকেআরকে ব্যাট করতে পাঠান গুজরাট অধিনায়ক শুভমন গিল। শুরুটা অবশ্য খুব একটা ভালো হয়নি নাইটদের। অধিনায়ক রাহানে ১৪ বলে ১৪ রান করে ফিরলেন। সিরাজের দারুণ ইনসুইং ডেলিভারি যেন বুমেরাংয়ের মতো ঘুরে এসে ভেঙে দেয় রাহানের স্টাম্প।

তবে রাহানের বিদায়ে কোনও প্রভাব পড়েনি কেকেআরের রানে। কারণ একপ্রান্তে তখন তাণ্ডব চালাচ্ছেন ফিন অ্যালেন। গুজরাটের বোলারদের মাঠের চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। অন্যদিকে তরুণ অঙ্গকৃষ রঘুবংশী খেলছিলেন অত্যন্ত পরিণত ইনিংস। বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইক তুলে দিচ্ছিলেন অ্যালেনকে, আর অ্যালেন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন।

অ্যালেন আউট হওয়ার পরও থামেনি কেকেআরের ঝড়। যাঁকে নিয়ে মরসুমজুড়ে সমালোচনা চলছিল, সেই ক্যামেরন গ্রিন ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন। রঘুবংশী ও গ্রিন মিলে যেন রান তোলার হাইওয়ে খুলে দেন। মাত্র ১৫.৫ ওভারে কেকেআরের স্কোর পৌঁছে যায় ১৯০-এ। অন্যদিকে ৩৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রঘুবংশীও।

১৭ ওভারেই ২০০ রান পেরিয়ে যায় কলকাতা। এরপর আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠেন রঘুবংশী। গুজরাটের বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ৮২ রানে। অন্যদিকে গ্রিনও ৫২ রানে নট আউট থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক ক্যাচ ফেলেন গুজরাটের ফিল্ডাররা, যা দেখে হতাশা লুকোতে পারেননি কোচ আশিস নেহরা

শেষ পর্যন্ত ২৪৭ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর তোলে কেকেআর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও লক্ষ্যই নিরাপদ নয়, তবু এই রান তাড়া করে জেতা গুজরাটের জন্য যে কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।