আজকাল ওয়েবডেস্ক: পায়ে ফোস্কা, পেশিতে টান, হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করার পরেও অদম্য লক্ষ্য সেন। নিজের লক্ষ্যে তিনি অবিচল। 

মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে লক্ষ্য সেন প্রায় দেড় ঘণ্টার সেমিফাইনালে কানাডার ভিক্টর লাইকে ২১-১৬,১৮-২১, ২১-১৫-এ হারিয়ে অল ইংল্যান্ড ওপেন ব্যাডমিন্টনের ফাইনালে পৌঁছলেন। অপেক্ষা আর একটি ম্যাচের। তার পরেই পঁচিশ বছরের খরা কাটবে। 

সূর্যদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ের জন্য অপেক্ষায় গোটা দেশ। প্রায় সবার অলক্ষ্যে লক্ষ্য সেন অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় দেশের বিজয়কেতন উড়িয়ে চলেছেন। 

২০০১ সালে পুলেল্লা গোপীচাঁদ যখন অল ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলন, তখন  লক্ষ্য সেন জন্মাননি। ভারতের 'সেনসেশনাল সেন' এর আগেও অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছিলেন। কিন্তু ঠোঁট আর পেয়ালার মধ্যে যে দূরত্ব থাকে, সেবার সেই ব্যবধানই থেকে গিয়েছিল। 

এবারের লক্ষ্য সেনকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। সেমিফাইনালে লক্ষ্য ধরা দিলেন অন্য অবতারে। নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে কার্যত এক পায়ে তিনি খেলে গেলেন। লক্ষ্য বলছেন, ''আমি এক একটা পয়েন্ট নিয়েই কেবল ভাবছিলাম। সমস্ত কিছুর জন্যই আমি তৈরি ছিলাম। কারণ আমার প্রতিপক্ষ সত্যিই খুব ভাল খেলছিল। আগামিকালের দিকে আমি তাকিয়ে। একদিন বিশ্রাম নিয়ে শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।'' 

রবিবার মেগা ফাইনাল বিশ্বের দু'প্রান্তে। আহমেদাবাদে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে লক্ষ্যর প্রতিদ্বন্দ্বী চাইনিজ তাইপের লিন চুন ই। তিনি আবার বিশ্বের এগারো নম্বর। লক্ষ্যর বিরুদ্ধে তিনি চার সাক্ষাতে চারটিতেই জিতেছেন। ফলে রবিবার লক্ষ্যকে পাহাড় ডিঙোতে হবে। 

শনিবারের সেমিফাইনালে র‌্যালির খেলা দেখা গিয়েছে। আর এই র‌্যালি লক্ষ্য ও লাইয়ের এনার্জি শুষে নেয়। শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল কেউ কাউকে ছাড়বেন না। চলবে র‌্যালি। প্রথম পয়েন্ট আসে ৫২টা র‌্যালির পরে। ৮৬টা শটের র‌্যালিও দেখেছে ম্যাচ। প্রথম ম্যাচ লক্ষ্য জিতেছিলেন ৭৮ মিনিটে। দ্বিতীয় ম্যাচ ৮১ মিনিটে। তৃতীয় ম্যাচে লক্ষ্যর সামনে ছিল হার্ডল। ক্রমাগত র‌্যালি, প্রতিপক্ষের লড়াই লক্ষ্যর সামনে তুলে ধরেছিল কঠিন  হার্ডল। নির্ণায়ক সেটের রেজাল্ট যখন ১৩-৯, সেই সময়ে খোঁড়াতে শুরু করেন লক্ষ্য।  তিনি খেলবেন নাকি অবসৃত হবেন, তা নিয়ে যখন ধন্দ, ঠিক সেই সময়ে ব্যথা-যন্ত্রণা নিয়ে লক্ষ্যর লড়াই শুরু হয়। লক্ষ্য বলছেন, ''তৃতীয় সেটে আমি ক্র্যাম্প অনুভব করতে শুরু করেছিলাম। তখনও জানতাম না পুরো ম্যাচ টানতে পারব কিনা। কিন্তু আমি প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছি।'' র‌্যালি না করে স্ম্যাশে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ১৩-৯ থেকে ১৫-৯ করেন স্ম্যাশ করে পয়েন্ট জিতে।  তার পরে আর পারছিলেন না। যন্ত্রণা প্রশমিত করতে চিকিৎসা নিতে হয় ভারতের সেনসেশনকে। হলুদ কার্ড দেখানো হয় তাঁকে। কিন্তু লক্ষ্য যে ছিলেন নিজের লক্ষ্যে অবিচল। ফাইনালে উঠে তিনি দেখিয়ে দিলেন ব্যথা-যন্ত্রণা কখনওই ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। অনমনীয় জেদের জয় দেখল ব্যাডমিন্টন বিশ্ব। লক্ষ্যর এই জয় প্রেরণা জুগিয়ে যেতে পারে ভারতীয় ক্রিকেটকেও। ইতিহাসের সন্ধিক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য ও ভারতীয় ক্রিকেট। একদিকে দলগত খেলা অন্যদিকে ব্যক্তিগত খেলা। ক্রিকেটের ঢক্কানিনাদেও কিন্তু লক্ষ্যর কীর্তিকে চাপা দেওয়া যাবে না।