আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমার বয়স এখন ৩৭। রিকভারির জন্য সময় দরকার। ম্যাচ জিতে উঠে বলে দিলেন বিরাট কোহলি।
তাঁকে এবং রোহিত শর্মাকে নিয়ে চলছে জল্পনা। শোনা যাচ্ছিল, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড নাকি টেস্টে তাঁদের ফেরানোর জন্য চিন্তাভাবনা করছে। বিরাট জানিয়ে দিলেন, তিনি এখন একটা ফরম্যাটেই খেলছেন। তাঁর পুরো প্রস্তুতিটাই মানসিক। শারীরিক দিক থেকে তিনি যতক্ষণ তৈরি এবং মানসিক তীক্ষ্ণতা রয়েছে, ততক্ষণ সব ঠিক আছে।
বিরাট কোহলিকে দেখলে কে বলবে, অস্ট্রেলিয়ায় খেলার এক মাস বাদে তিনি আবার খেলতে নেমেছেন। টুথ পিকের মতো ব্যাট নড়াচড়া করছিলেন। দেহের ভারসাম্য দুর্দান্ত। ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি করলেন। যশস্বী জয়সওয়াল শুরুতেই ফিরে যাওয়ার পরে রোহিত শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৬ রান জুড়লেন। আপার কাটে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিয়নের শচীন তেণ্ডুলকরকে ফেরালেন। রোহিত শর্মার সঙ্গে সেই পুরো জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংকে অত্যন্ত সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন।
কেরিয়ারের এই পড়ন্ত বেলাতেও তিনি দেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলারদের সামলাতেই ইডেন-গুয়াহাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। আর ভারতীয় ক্রিকেটের দুই 'বুড়ো ঘোড়া' দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন প্রোটিয়া ব্রিগেডের কাছে। রোহিত শর্মা ৫৭ রান করে থেমে গেলেন। বিরাট কোহলি থামলেন না। তিনি সেঞ্চুরি করলেন, দেশের শ্বাসপ্রশাস জুড়ে আজ কেবলই বিরাট কোহলি। ৮৩ নম্বর সেঞ্চুরি হয়ে গেল তাঁর। এরপরও কি গম্ভীর ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভাববেন না কোহলির নাম?
কোহলির গাণ্ডীব এখনও ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। স্টেপ আউট করে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পরপর উইকেট পরার সময়ে তিনি একদিক ধরে রেখেছিলেন। অনুজ ক্রিকেটারকে পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট দেখে কে বলবে তিনি এখন ৩৭।
বিরাট কোহলি এক লড়াইয়েরও নাম। হাল ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দুটো ওয়ানডেতে খাতা খোলেননি তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার একমাস বাদে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে গেলেন। রাঁচিতে তৃতীয় শতরান। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ। শেষ পর্যন্ত কোহলি থামলেন ১৩৫ রানে। ১১টি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস।
বিরাট সেঞ্চুরি করায় এবং রোহিত শর্মা অর্ধশতরান করায় এবং শেষের দিকে লোকেশ রাহুল গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দেওয়ার ফলে ভারত রানের পাহাড় গড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাও মরণ কামড় দিয়েছিল। কিন্তু শেষ হাসি তোলা ছিল ভারতের জন্য।
