আজকাল ওয়েবডেস্ক: টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর রাঁচির জেএসসিএ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে একদিনের সিরিজে নেমেছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে প্রথম ওয়ান ডে-তে দু’দলের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। দক্ষিণ আফ্রিকা আসছে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর হয়ে। টেস্টে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে, গুয়াহাটিতে ৪০৮ রানের বিশাল জয়সহ।
অন্যদিকে ভারত এসেছে আঘাতপ্রাপ্ত, সমালোচিত এবং দিশেহারা অবস্থায়। তাই সাদা বলের সিরিজই তাদের সামনে নতুন করে শুরু করার বড় সুযোগ।
রাঁচির প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে মনে করাটা প্রয়োজন শেষবার ভারত এখানে এই ফরম্যাটে খেলেছিল কবে এবং কী ফল হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচটিও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই।
দল, মাঠ ও ম্যাচের গুরুত্ব একইরকম হলেও প্রেক্ষাপট এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারত শেষবার রাঁচিতে ওয়ানডে খেলেছিল ৯ অক্টোবর ২০২২ সালে, শিখর ধাওয়ানের নেতৃত্বে।
সেই ম্যাচটি ভারত জিতেছিল বোলিংয়ে শৃঙ্খলা এবং ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জোরে। সেবার প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৭৮/৭। রিজা হেনড্রিকস (৭৪) এবং এডেন মার্করাম (৭৯) গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
তবে ভারতীয় বোলাররা শেষ পর্যন্ত রানরেট বাড়তে দেননি। মহম্মদ সিরাজ ছিলেন দিনের সেরা বোলার। তাঁর পরিসংখ্যান ছিল ১০-১-৩৮-৩। শেষ ওভারে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ দেখান তিনি।
শাহবাজ আহমেদ ও কুলদীপ যাদব নেন একটি করে উইকেট। রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা খুব একটা ভাল হয়নি। ধাওয়ান ১৩ রানে আউট, শুভমান গিল ২৮ রানে ফেরেন।
৪৮/২ অবস্থায় চাপে পড়ে ভারত। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ইশান কিশান ও শ্রেয়স আইয়ারের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। নিজের ঘরের মাঠে খেলতে নামা ইশান কিশান ৮৪ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, মাত্র সাত রানের জন্য বঞ্চিত হন শতরান থেকে।
অন্যদিকে শ্রেয়স আইয়ার খেলেন শান্ত, নিয়ন্ত্রিত ও ম্যাচজয়ী ইনিংস। তিনি অপরাজিত থাকেন ১১৩ (১১১ বল) রানে। তাদের ১৬১ রানের জুটি একেবারে ভেঙে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পনা।
শেষ পর্যন্ত সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৩০ রানে ভারত লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে ৪৫.৫ ওভারে, সাত উইকেট হাতে রেখেই। রাঁচিতে ভারতের রেকর্ড ৬ ম্যাচে ৩ জয়।
যেখানে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারও রয়েছে। এবার ভারত ফিরছে আরও বড় চাপ নিয়ে, নিয়মিত অধিনায়ক শুভমান গিল না থাকায় অধিনায়কত্বে আসছেন কে.এল. রাহুল।
সাথে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন দলকে দেবে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্য। দক্ষিণ আফ্রিকা আসছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
তবে রাঁচি আগেও ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চের সাক্ষী হয়েছে। এবার তা আবারও হবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভারতের সাদা বলের অভিযানের নতুন সূচনা।
