আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছল নিউজিল্যান্ড। মেগা ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কোন দল? বৃহস্পতিবারের ওয়াংখেড়ে তার উত্তর দেবে। বহু যুদ্ধের সাক্ষী ওয়াংখেড়েতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের সামনে ইংল্যান্ড।
ইডেনের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করল প্রোটিয়া-ব্রিগেড। বলা ভাল নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেনের কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করল প্রোটিয়া ব্রিগেড। ৩৩ বলে ১০০ রান করে ফিন অ্যালেন অপরাজিত থেকে যান। ১০টি বাউন্ডারি ও ৮টি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস।
নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে দরকার ছিল মাত্র ১ রান। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে অ্যালেনের দরকার ছিল ৪ রান। জ্যানসেনকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি করেন কিউয়ি ওপেনার। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের। ২০১৬ সালে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্যারিবিয়ান দৈত্য। রেকর্ড যে গড়া হয় ভাঙার জন্যই। অ্যালেন আরও একবার তা প্রমাণ করলেন।
অ্যালেনের সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬৯ রান ১২.৫ ওভারেই তাড়া করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। আরেক কিউয়ি ওপেনার সেইফার্ট ৫৮ রানের ঝড় তোলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার রান তাড়া করতে নেমে কিউয়িরা ১২.৫ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করে ম্যাচ জিতে নেয়। ৪৩ বল বাকি থাকতে নিউজিল্যান্ড হাসতে হাসতে ফাইনালে পৌঁছে গেল। কিন্তু এত সহজে কি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো সম্ভব ছিল? কেউ কি ভেবেছিলেন একতরফা ম্যাচ জিতে নেবে কিউয়িরা?
চলতি বিশ্বকাপে বিশ্বকাপে সাতটা ম্যাচ অপরাজিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনালে নামার আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আর পাঁচবারই শেষ হাসি তোলা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার।
ইডেনে ইতিহাসের চাকা ঘুরল। আসল সময়ে অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকার রথের চাকা বসে গেল। চিরকালের চোকার্স সেই চোকার্সই থেকে গেল। ব্যাটাররা হারাকিরি করে গেলেন। জ্যানসেনের ব্যাটে তাও ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছয় প্রোটিয়ারা। কিন্তু অ্যালেন ঝড়ে বিধ্বস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা।
টস জিতে প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করতে পাঠান কিউয়ি অধিনায়ক স্যান্টনার। মার্কো জ্যানসেনের মারমুখী ৫৫ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছিল ৮ উইকেটে ১৬৯ রান।
সবাই ধরেই নিয়েছিল রাবাদা, এনগিডিদের হাতে লড়াই করার পুঁজি তুলে দিয়েছিলেন জ্যানসেন। কিন্তু কিউয়িরা শুরু থেকেই যে এভাবে ঝড় তুলবেন, তা কে ভেবেছিলেন! ৬ ওভারেই ৮৪ রান করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। তখনই দক্ষিণ আফ্রিকাকে রিংয়ের বাইরে ফেলে দিয়েছিলেন কিউয়িদের দুই ওপেনার সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন।
রাবাদার বলে সেইফার্টের উইকেট যখন ভাঙল, তখন নিউজিল্যান্ডের রান এক উইকেটে ১১৭। ম্যাচ ঢুকে গিয়েছে কিউয়ি শিবিরে। মাত্র ৩৩ বলে সেইফার্ট খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস। অন্যদিকে ফিন অ্যালেন ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। তার পরেও অ্যালেনের নায়ক হয়ে ওঠার আখ্যান বাকি ছিল!
সেইফার্টের উইকেট হারালেও নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। ইডেনের নায়ক আজ ফিন অ্যালেন। তিনি ও রাচীন রবীন্দ্র বাকি কাজটা সারেন। জ্যানসেনের ওভারে ২৪ রান নিয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি সেরে ফেলেন অ্যালেন। ইডেনে সেমিফাইনাল জিতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে আহমেদাবাদে ফাইনাল খেলতে। তাদের প্রতিপক্ষ কে? সেই উত্তর পাওয়া যাবে বৃহস্পতিবার।
