আজকাল ওয়েবডেস্ক: টেস্ট, টি-টোয়েন্টি থেকে ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা। অনেকের মতে, টিম ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ প্রজন্মই এখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

কিন্তু সিরিজ নির্ধারক ম্যাচেও আজও ভারতের ভরসা সেই ৩৭ বছরের ‘নন কমিট্যাল’ বিরাট কোহলি। যাবতীয় বিতর্ক, যাবতীয় আক্রমণ, যাবতীয় সমালোচনা পিছনে ফেলে তিনি আজও চেজ মাস্টার।

কিন্তু রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাস্টারক্লাস ইনিংস খেলেও হার বাঁচাতে পারলেন না বিরাট কোহলি। কারণ একটাই, তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারল না কেউই।

নিউজিল্যান্ড তৃতীয় একদিনের ম্যাচ জিতল ৪১ রানে। ভারতে এটাই প্রথম একদিনের সিরিজ জয় কিউইদের। এই নিউজিল্যান্ডের কাছেই কোচ গৌতম গম্ভীরের অধীনে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া।

আবার এই দলের বিরুদ্ধেই ইন্দোরে প্রথম কোনও একদিনের ম্যাচ হারতে হল। কোহলি বাদে ভারতীয় দলের পুরো টপ অর্ডার ব্যর্থ এদিন। অধিনায়ক শুভমান গিল ভাল শুরু করেও বোল্ড হয়ে গেলেন।

রোহিত শর্মা মারতে গিয়ে আউট হলেন শুরুতেই। কেএল রাহুল রোজ রোজ দলকে উদ্ধার করবেন সেটা ভাবাও হয়তো বাড়াবাড়ি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এদিন ১৪০ কোটি ভারতবাসী বুক বেঁধেছিল যতক্ষণ কোহলি আছেন ততক্ষণ সবকিছু সম্ভব। 

প্রায় সেটা হয়েও গিয়েছিল। শুধু উল্টোদিকে সঙ্গীর অভাব থাকায় বেরোল না ম্যাচ। ১২৪ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেও মাথা নিচু করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন বিরাট কোহলি।

৩৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এদিন ভারত শুরুতেই হারায় রোহিত শর্মাকে(১১)। শুভমান গিল(২৩) বেশিক্ষণ টেকেননি। কিন্তু এদিন তাঁকে বেশ ভাল ছন্দে দেখাচ্ছিল।

কাইল জেমিসনের ডেলিভারি গিলের ব্যাট আর প্যাডের মধ্যে দিয়ে ছিটকে দিল স্টাম্প। কোহলি তিন নম্বরে নেমে এদিন ইনিংস শুরুই করলেন ছক্কা দিয়ে। কিন্তু উল্টোদিকে সঙ্গী বদল হচ্ছিল খুব তাড়াতাড়ি।

টিম ইন্ডিয়ার ৮০ রানের মধ্যে সাজঘরে ফিরে গেলেন শ্রেয়স আইয়ার(৩) এবং কেএল রাহুল(১)। নীতীশ কুমার রেড্ডিকে নিয়ে কোহলি ফের শুরু করলেন ইনিংস গড়া।

প্রাথমিক ভাবে কোনও ব্যাটারই রিস্ক নেননি। সিঙ্গল, ডাবল খেলেই রান তুলছিলেন। একবার সেট হয়ে যেতে হাত খোলেন নীতীশ। বিশাল ছক্কা মেরে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পরেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে(৫৩)।

ব্যর্থ হলেন রবীন্দ্র জাদেজাও(১২)। তবে কোহলির সঙ্গে ৯৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে জয়ের আশা দেখান হর্ষিত রানাই। যার দলে থাকা নিয়ে এত বিতর্ক, সেই হর্ষিত এদিন বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি প্রথম একাদশে থাকার যোগ্য।

কোহলি যখন অ্যাঙ্করের ভূমিকায় হর্ষিত কোনও কিউই বোলারকে রেয়াত করেননি। কিন্তু অর্ধশতরানের পরেই ফের ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন(৫২)। হর্ষিত ফেরার পর ভরসা ছিলেন একমাত্র বিরাটই।

পরপর দুটো বাউন্ডারি মারার পর ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিরাট। কুলদীপ(৫) ফিরলে ২৯৬ রানে অল আউট হয় টিম ইন্ডিয়া।

এদিন চাপের ম্যাচে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড তোলে পাহাড়প্রমাণ ৩৩৭ রান। একসময়ে নিউজিল্য়ান্ডের রান ছিল ৩ উইকেটে ৫৮। সেখান থেকেই ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস ইনিংসের হাল ধরেন।

২১৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন মিচেল ও ফিলিপস। মিচেল ও ফিলিপস জোড়া শতরান করেন। মিচেল ১৩১ বলে ১৩৭ রান করেন। অন্যদিকে ফিলিপস ৮৮ বলে ১০৬ রান করেন।

এই দুই ব্যাটারই ভারতের কাজ কঠিন করে দেন। তবে কিউয়িরা আরও বেশি রান করতেই পারত। ৩ উইকেটে ২৭৭ থেকে ৩২৭ রানের মধ্যে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে।

ফলে কিউয়িরা নিজেদের রান আরও বাড়াতে পারেনি। হেনরি নিকোলসকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুটা ভালই করেছিলেন অর্শদীপ সিং। অন্যদিকে ডেভন কনওয়েকে ৫ রানে ফেরান হর্ষিত রানা।

দু’উইকেট চলে যায় পাঁচ রানে। উইল ইয়ং ফেরেন দলীয় রান ৫৮-য়। তখনও মনে হচ্ছিল ভারত বুঝি ম্যাচের দখল নিয়ে ফেলেছে।কিন্তু ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস অন্যকিছু ভেবেছিলেন।

ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে এই দুই ব্যাটার রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ সিং ৩টি, হর্ষিত রানা ৩টি উইকেট নেন। মহম্মদ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব একটি করে উইকেট নেন। কুলদীপ ও জাদেজা তাঁদের কোটা পূর্ণ করেননি।