আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের টেস্ট ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে চলেছে। বৃহস্পতিবারই তারা জানিয়েছে, টি–২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না। তারপর আবার আইসিসিকে চিঠিও লিখেছে। জানিয়েছে, তাদের দাবি নিরপেক্ষ কমিটিতে পাঠানো হোক।
প্রসঙ্গত, আইসিসি পরিচালিত কোনও বিষয় নিয়ে বিতর্ক হলে তা নিরপেক্ষ বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে পাঠানো হয়। স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি যে কোনও বিতর্কের সুরাহা করে। ইমেলে বিসিবি অনুরোধ করেছে, বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলির স্থান পরিবর্তনের দাবি ওই কমিটির কাছে পাঠানো হোক। সেখানে যা সিদ্ধান্ত হবে, বাংলাদেশ বোর্ড তা মেনে নেবে। এই অনুরোধ আইসিসি মানবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে শোনা যাচ্ছে টি–২০ বিশ্বকাপ খেলতে না আসলে বাংলাদেশের টেস্ট দলের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হতে পারে। ২০০০ সালের জুনে টেস্ট দলের স্বীকৃতি পেয়েছিল বাংলাদেশ। দশম দেশ হিসেবে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিল তারা। কিন্তু একটা আইসিসি টুর্নামেন্ট ‘না’ খেলার জন্য তাদের সেই স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলেছিল ভারতের বিরুদ্ধেই। আর এবার ভারতে টি–২০ বিশ্বকাপ খেলতে না আসার জন্য তাদের টেস্ট দলের স্বীকৃতি কেড়ে নিতে পারে আইসিসি।
যদিও টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মোটেও বলার মতো নয়। এখনও অবধি ১২০ টেস্ট খেলে জিতেছে মাত্র ১৪ ম্যাচ। ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছে লাল বলের ক্রিকেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও এখনও অবধি বলার মতো পারফরম্যান্স নেই।
আইসিসির প্রধান এখন ভারতীয় জয় শাহ। তাই তিনি বিরক্ত হয়ে বাংলাদেশের টেস্ট খেলিয়ে দেশের স্বীকৃতি কেড়ে নিতেই পারেন। শুধু তাই নয়, টি–২০ বিশ্বকাপ ভারতে খেলতে না এলে বা না খেললে ২০২৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে যোগ্যতাঅর্জন পর্বের মধ্যে দিয়ে আসতে হতে পারে। সরাসরি খেলার সুযোগ নাও পেতে পারে। এমনকী ২০৩১ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক তারা। তাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
এটা ঘটনা, বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইপিএলে খেলতে না দেওয়ায় বাংলাদেশও জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে কোনও ম্যাচ খেলতে পারবে না। তারপর থেকে একাধিকবার চিঠি চালাচালি ও বৈঠক হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণ। তবে বিসিবির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁরা আশা ছাড়বেন না। নিজেদের দাবি আইসিসিকে বরাবর জানিয়েই যাবেন।
