আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন তরুণ পেসার হর্ষিত রানা।

তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে ওয়ানডে দলে একজন পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। প্রথম একদিনের ম্যাচের পর ২৩ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, শুধু বল হাতে নয়, তাঁর ক্ষেত্রে ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে তৈরি করতে চায়। আমার দায়িত্ব সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাওয়া। নেটে নিয়মিত ব্যাটিং অনুশীলন করছি। ম্যাচে নামার সময় সতীর্থদের দেওয়া আত্মবিশ্বাস আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’

তিনি আরও জানান, দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে অলরাউন্ডার হিসেবে আট নম্বরে ব্যাট করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। হর্ষিত বলেন, ‘যতটা সম্ভব নেটে ব্যাটিংয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ারের ৭৭ রানের জুটিতে ভারত জেতার জায়গায় থাকলেও হঠাৎ ধস নামে।

কোহলি ৯৩ রানে আউট হওয়ার পর রবীন্দ্র জাডেজাও প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ফলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সুন্দরকে পিছনে রেখে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামানো হয় হর্ষিত রানাকে।

এই সিদ্ধান্তে প্রথমে অনেকেই বিস্মিত হন। কারণ সুন্দরকে নির্ভরযোগ্য লোয়ার অর্ডার ব্যাটার হিসেবে ধরা হয়। পরে জানা যায়, হালকা চোটের কারণে সুন্দর পুরোপুরি ফিট ছিলেন না, তাই ব্যাটিং অর্ডারে বদল আনা হয়।

ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ মর্যাদা দেন হর্ষিত রানা। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সাত নম্বরে ব্যাট করে দলের জন্য ৩০-৪০ রান করার ক্ষমতা আমার আছে। টিম ম্যানেজমেন্টও আমার ওপর সেই বিশ্বাস রাখে। যখন সেই আস্থা থাকে, তখন দলের পরিবেশ খুব ইতিবাচক হয়ে ওঠে।’

প্রথম একদিনের ম্যাচে বল হাতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন হর্ষিত। তিনি নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকলসকে আউট করেন।

ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ২৩ বলে ২৯ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছয়। তাঁর ইনিংসের ফলে চাপমুক্ত হয়ে কেএল রাহুল শান্ত মাথায় দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ভারতের প্রথম একাদশে হর্ষিত রানার অন্তর্ভুক্তি ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এমনকী, প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চাল অর্শদীপ সিংকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নির্বাচনের সমালোচনা করেন।

তবে সমালোচনার পাশাপাশি সমর্থনও পেয়েছেন কেকেআরের এই পেসার। হর্ষিত রানার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ ও ইরফান পাঠান।

এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে মহম্মদ কাইফ হর্ষিতের বোলিং দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, হর্ষিতের এই পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ‘আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত।’

কাইফ লেখেন, ‘হর্ষিত রানা দেখিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস একজন পেসারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন ও জোরে বল করে, স্লোয়ার বলের পরীক্ষা করে, সুইং করানোর ক্ষমতা রয়েছে, এমনকী বাউন্সার দিতেও ভয় পায় না। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এটা সত্যিই ভাল লক্ষণ।’

কাইফের সুরে সুর মিলিয়ে ইরফান পাঠানও হর্ষিতের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘হর্ষিত রানা ধারাবাহিকভাবে ভারতের জন্য ব্রেক থ্রু এনে দিচ্ছে। ওর মধ্যে দম আছে।’

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচেও হর্ষিতের বোলিংয়ে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে ধারাবাহিকতার ছাপ। আগামী ম্যাচগুলিতেও যে তিনি প্রথম একাদশে থাকার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন তা বলাই বাহুল্য।