আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন ইরানের মহিলা ফুটবল দলের আরও তিন সদস্য। এই তিন ফুটবলার এর আগে অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেওয়া হিউম্যানিটারিয়ান ভিসায় সেখানে থেকে গিয়েছিলেন।

তবে এবার তাঁরা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের ফুটবলারদের সংখ্যা আগের সাতজন থেকে কমে এখন তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

গত মাসে এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরানের মহিলা ফুটবল দল। তারপরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রবিবার এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ইরান মহিলা দলের তিন সদস্য রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি দলের সঙ্গে ইরানে ফেরার পথে যোগ দিয়েছেন।

বার্ক বলেন, ‘রাতের মধ্যে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের তিন সদস্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেশে ফিরবেন তাঁরাও।’

তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ান প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে দেশে ফেরার আগে ফুটবলাররা যেন তাদের সামনে থাকা সব বিকল্প ভালভাবে বুঝে নেন এবং তারপরেই সিদ্ধান্ত নেন।

বার্ক আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর খেলোয়াড়দের তাদের বিকল্প নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে যাওয়া তিনজনের মধ্যে দু’জন ফুটবলার এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ রয়েছেন। ইরানের মহিলা ফুটবল দল মোট ২৬ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর প্রথমে ছ’জন ফুটবলার এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া হিউম্যানিটারিয়ান ভিসা গ্রহণ করেন। যার ফলে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ পান।

অন্যদিকে দলের বাকি সদস্যরা ৯ মার্চ সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে যখন গোল্ড কোস্টে দলের হোটেল থেকে রাতে পাঁচজন ফুটবলার বেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছে সুরক্ষা চান।

পরে পুলিশ তাদের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। যেখানে তাদের সঙ্গে দেখা করেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। এরপরই তাদের হিউম্যানিটারিয়ান ভিসা মঞ্জুর করা হয়।

জানা যায়, এই তালিকায় ছিলেন ইরান মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি, মিডফিল্ডার ফাতেমা পাসানদিদে, জাহরা সারবালি আলিশা, মোনা হামুদি এবং ডিফেন্ডার আতেফা রামেজানিজাদে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার পরে আরও জানায়, ইরানের দলের বাকি সদস্যরাও চাইলে একই ধরনের সুযোগ পেতে পারেন। এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন ফুটবলাররা তাতে গলা না মেলানোর ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

যদিও এর ব্যাখা পরে পাওয়া যায়নি। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ফুটবলারদের জাতীয় সঙ্গীত গাইতেও দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রক বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছে।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে ফুটবলারদের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।