আজকাল ওয়েবডেস্ক: নক আউট পর্বে ফের টানটান ম্যাচ। পিছিয়ে থেকেও কামব্যাক করে নেদারল্যান্ডসকে হারাল মরক্কো।  টাইব্রেকারে দু'দলেরই পেনাল্টি মিসের বন্যা।

ইয়াসিন বোনোর একটা সেভই ম্যাচের ফল লিখে দিল। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কোয়ালিফাই করল মরক্কো। ১২০ মিনিটে খেলার ফলাফল ১-১। পেনাল্টি শুট-আউটে ৩-২ ফলাফলে ডাচদের হারালেন ব্রাহিম দিয়াজরা।

টাইব্রেকারে ইয়াসিন বোনো যে কতটা বিপজ্জনক সেটা যারা দেখেছেন তারা জানেন। কাতার বিশ্বকাপে এই বোনোর গ্লাভসই মরক্কোকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। সেই ধারা এবারেও বয়ে চলেছে।

টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের পরিকল্পনা কী ছিল সেটা একমাত্র কোচ রোনাল্ড কোম্যানই জানেন। তারকা ফুটবলার এবং অধিনায়ক ভ্যান ডাইক পেনাল্টি মারতেই গেলেন না। 

কুইন্টন টিম্বার মনে হয় কর্নার ফ্ল্যাগ লক্ষ্য করে শট রাখলেন। সামারভিল, ক্লুইভার্টের শট গিয়ে পোস্টে লাগল। নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন ওখানেই শেষ। মরক্কোও একাধিক বার সুযোগ দিয়েছিল। 

হাকিমি এদিন পেনাল্টি মিস করলেন। আনাউই আকাশে মারলেন। সামারভিলের শট বোনো সেভ দিতেই শেষ শটে সুযোগ ছিল মরক্কোর কাছে। নষ্ট করলেন না সাইবারি।

কাতার বিশ্বকাপে এই টাইব্রেকারেই এমি মার্টিনেজের গ্লাভসের কাছে হারতে হয়েছিল ডাচদের। এবারে তাঁর জায়গায় ইয়াসিন বোনো। গোটা ম্যাচ জুড়ে খুব একটা বেশি প্রভাবও ফেলতে পারল না নেদারল্যান্ডসের আক্রমণভাগ।

৭২ মিনিটে এগিয়ে গিয়ে মিনিট ২০ লিড ধরে রাখতে পারল না গেরুয়া বাহিনী। ইনজুরি টাইমে গোল করে সমতা ফেরায় মরক্কো। ভ্যান ডাইকের মারাত্মক ভুলে সমতা ফেরায় আফ্রিকান জায়ান্টরা।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় কাটিয়ে মাঠে নেমে এদিন নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন কোডি গাকপো। তবে শেষ মুহূর্তে মরক্কোর ইসা দিওফের দুরন্ত হেডে ম্যাচে ফেরে আটলাস লায়ন্সরা।

বদলি হিসেবে নেমেই প্রভাব ফেলেন ওয়াট ভেগহর্স্ট। নিজের শারীরিক শক্তি কাজে লাগিয়ে বল বাড়িয়ে দেন সামারভিলের দিকে। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে এসে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

সেই শট ব্লক হলেও বল পেয়ে যান গাকপো। বক্সের বাইরে থেকে গাকপোর শক্তিশালী শট জালে জড়িয়ে যায়। গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন তিনি।

গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন সদ্য নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন গাকপো। পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য তাঁকে ছুটিও দেওয়া হয়েছিল। দলের অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকও জানিয়েছিলেন, এই কঠিন সময় গাকপো ও তাঁর পরিবার যেভাবে সামলেছেন, তার প্রতি তাঁর গভীর সম্মান রয়েছে।

গোল করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গাকপো। চোখে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের সতীর্থরা ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু নাটক আরও বাকি ছিল।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় মরক্কো। বাঁ দিক থেকে বদলি হিসেবে নামা তালবির দুর্দান্ত ডান পায়ের ক্রস থেকে উঠে এসে হেড করেন সেন্টার-ব্যাক ইসা দিওফ।

তাঁর শক্তিশালী হেডে বল জড়িয়ে যায় নেদারল্যান্ডসের জালে। বক্সের মধ্যে ভেসে আসা বলের গতি বুঝতে না পেরে লাফাননি ভ্যান ডাইক। তাঁর পিছনে থাকা দিওফকে সামলাতেও ব্যর্থ হন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মরক্কো ম্যাচে ফিরে আসে।