ব্রাজিল - ২ (ক্যাসেমিরো, মার্টেনেলি)
জাপান - ১ (সানো)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ম্যাচের বয়স ৯০+৬। স্টপেজ টাইমের শেষ মিনিট। ব্রুনো গুইমেরিজের পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির গড়ানো শট গোলে। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল হিউস্টনের স্টেডিয়াম। অবশেষে সমুরাইদের চ্যালেঞ্জ ভেঙে মার্কিন মুলুকে ফিরল সাম্বা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল। নব্বই মিনিটের শেষে ২-১ গোলে জয় সেলেকাওদের। শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল জাপান। সানোর গোলে প্রথমার্ধের শেষে পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরায় ক্যাসেমিরো। বাকি সময়টা ব্রাজিলের আক্রমণের ঝড় ধরে রাখতে পারেনি জাপান। দুই অর্ধ দু'দলের বললে খুব ভুল হবে না। প্রথমার্ধে ম্লান ফুটবলের পর, দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের টেম্পো বাড়িয়ে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। নাটকীয় জয়ে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল। জারি হেক্সা অভিযান।
এদিন ব্রাজিল দল ছিল অপরিবর্তিত। ৪-১-২-৩ ফরমেশনে দল সাজান কার্লো আনচেলত্তি। সামনে রায়ান, ম্যাটিয়াস কুনহা এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র। অন্যদিকে সামনে একা আয়াসে উইদাকে রেখে শুরু করে জাপান। রক্ষণে পাঁচজন। সর্বত্র ভিনসিয়াসের সঙ্গে সেঁটে থাকে দু'জন। যার ফলে খেলা তৈরি করার সুযোগ পায়নি রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। প্রথমার্ধ ব্রাজিলের ছিল না। ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান পাকুয়েতা। কোনওক্রমে প্রথমার্ধে খেলা চালিয়ে যান। বিরতিতে তাঁকে তুলে এন্ডরিককে নামাতে হয়। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের খেলায় সেই ঝাঁঝ ছিল না। সাম্বার ছন্দ দূর অস্ত। গ্রুপ পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখে পড়তে হয়নি। তাই সেইভাবে পরীক্ষিত নয়। এদিন ভিনিসিয়াস আটকে যেতেই আটকে যায় ব্রাজিল। অন্যদিকে, গোটা ৪৫ মিনিটে একটি সুযোগ পায় জাপান। তাতেই গোল। প্রথমার্ধের শেষে ০-১ গোল পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম সুযোগ ব্রাজিলের। ম্যাটিয়াসের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান জাপানের গোলকিপার সুজুকি। বল পজেশন নিজেদের দখলে রাখলেও, ইতিবাচক ফুটবল খেলতে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। অতিরিক্ত ব্যাক পাস এবং স্কোয়ার পাস। তারওপর ছোট চেহারার জাপানিদের গতির কাছে মার খায় ব্রাজিলিয়ানরা। ক্যাসেমিরোর ভুলে পিছিয়ে পড়ে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাই সু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। অবিশ্বাস্য। ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় হিউস্টনের গোটা স্টেডিয়াম। ম্যাচের গতির বিরুদ্ধে গিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আক্রমণ জাপানের। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে গতি বাড়িয়ে ক্যাসেমিরোকে পরাস্ত করেন সানো। গ্যাব্রিয়েলকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল। দুর্গ রক্ষা করতে পারেনি অ্যালিসন।
২০০২ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল ব্রাজিল। সেবারই শেষবার বিশ্বকাপ জেতে সেলেকাওরা। এবারও পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে প্রত্যাবর্তন। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কিনা সময়ই বলবে। এদিন প্রথমার্ধে বিরক্তিকর ফুটবল ব্রাজিলের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই টেম্পো বাড়ায় আনচেলত্তির দল। বিরতির পর এক অন্য ব্রাজিল। ম্যাচের ৫২ থেকে ৫৮ মিনিটের মধ্যে চারটে গোলের সুযোগ। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ড্যানিলোর ক্রস থেকে ব্রুনো গুইমারেজের হেড বাঁচিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান জাপানের কিপার জিও সুজুকি। তার দু'মিনিট পর আবার সুযোগ। এবার গোললাইন সেভ। ক্যাসেমিরোর হেড ব্লক করে টোমিয়াসু। তারপর বল সুজুকির মাথায় লাগে। গোল লাইন থেকে ক্লিয়ার করেন হিরোকি ইটো।
যেভাবে আক্রমণের ঝড় তুলেছিল ব্রাজিল, আটকে রাখা মুশকিল ছিল। পারেওনি জাপান। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরান ক্যাসেমিরো। গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে হেড করে ১-১ করেন। এবার আর দুর্গ অক্ষত রাখতে পারেননি সুজুকি। প্রায়শ্চিত্ত করেন ক্যাসেমিরো। তার দু'মিনিটের মাথায় ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল সেলেকাওরা। কিন্ত ভাগ্য সহায় ছিল না। ম্যাচে প্রথমবার ভিনিসিয়াসের কেরামতি চোখে পড়ে। একক দক্ষতায় বাঁ দিক থেকে গতি বাড়িয়ে দু'জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলে শট রাখেন। বল জাপানের কিপার সুজুকির হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি পজিটিভ ফুটবল খেলে ব্রাজিল। তার ফলও মেলে। কিন্তু ম্যাচে সমতা ফেরানোর কিছুক্ষণের মধ্যে আবার মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলে ব্রাজিল। তবে আর খেসারত দিতে হয়নি। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। এদিন ব্রাজিলের ক্ষেত্রে এই লাইনই আদর্শ। মার্টেনেলির স্টপেজ টাইমের গোল শেষ ষোলোয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে ব্রাজিল ফ্যানদের একটাই আফশোস, এদিন আর বল পায়ে নেইমারকে দেখার সুযোগ মেলেনি।















