আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিটি বিশ্বকাপই এমন কিছু গল্প রেখে যায়, যা শুধু ট্রফি জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মঙ্গলবার সেই গল্প লিখল প্যারাগুয়ে।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের দেশবাসীকে তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় রাত উপহার দিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। দীর্ঘ ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর ম্যাচের ফল নির্ধারণ হল টাইব্রেকারে।
নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।
জার্মানির হয়ে ছ’নম্বর পেনাল্টি নিতে এসে জোনাথন টাহ বল উড়িয়ে দেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। প্যারাগুয়ের হয়ে জোসে কানালে ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি কনভার্ট করেন গোলে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিলেন দুই গোলরক্ষক। একদিকে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়ার। অন্যদিকে ছিলেন ২৫ বছরের অরল্যান্ডো গিল।
শেষ পর্যন্ত নায়ক হয়ে উঠলেন গিলই। পরিসংখ্যান বলছে, ১২০ মিনিটে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। জার্মানির পরপর আক্রমণেও ভেঙে পড়েনি প্যারাগুয়ে ডিফেন্স। পেনাল্টি শুটআউটেও নিজের দক্ষতা দেখান গিল।
আটকে দেন কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডের শট। প্রথম শট মিস করেছিল প্যারাগুয়ে। সেখানে থেকে গিলের গ্লাভস ম্যাচে ফেরায় তাদের। পেনাল্টিও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন।
ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার পেনাল্টি রুখে দিয়েছিলেন নয়্যার। কিন্তু তারপরেও শেষরক্ষা হল না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার পেনাল্টি শুটআউটে হারের মুখ দেখল জার্মানি।
১২০ মিনিটের ম্যাচে একাধিক নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ১০২ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জোনাথন টাহের হেড গোলে ঢুকে যায়। কিন্তু ভারে দেখা যায়, গোলের আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে ফাউল করেছেন ওয়ালডেমার অ্যান্টন।
এদিন প্যারাগুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন হুলিও এনসিসো। বিশ্বকাপের আগে নিকারাগুয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে তাঁর খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
তবে দেশের হয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে ওঠেন ২২ বছরের এই ফরোয়ার্ড। ৪২ মিনিটে মাতিয়াস গালার্জার দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেড করে নয়্যারকে পরাস্ত করে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পুরনো চোটের কারণে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এসেছিল তারা।
কিন্তু এবারও নকআউটের প্রথম ম্যাচেই থেমে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যাত্রা। অন্যদিকে, ২০১০ সালের শেষবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল প্যারাগুয়ে। তারপর এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য তাদের। ১৬ বছর পর জাতীয় দলের ইতিহাসে নতুন সোনালি অধ্যায় লিখলেন অরল্যান্ডো গিলরা।















