ভারতে দ্রুতগতিতে E20 পেট্রোল চালুর মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেরই ধারণা, পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়লে জ্বালানির দামও কমে যাবে।
2
10
এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে জানিয়েছেন হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম কে সুরানা।
3
10
একটি বায়োফুয়েল বিষয়ক আলোচনায় তিনি বলেন, ইথানল মেশানো মানেই পেট্রোলের দাম কমবে—এমন ধারণার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। কারণ, তেল বিপণন সংস্থাগুলির কাছে ইথানলের ক্রয়মূল্য পেট্রোলের তুলনায় বেশি।
4
10
সুরানার মতে, বর্তমানে ইথানলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ৫৬.৭১ থেকে ৭১ পর্যন্ত, যেখানে পেট্রোলের এক্স-রিফাইনারি মূল্য প্রায় ৫৩ প্রতি লিটার। ফলে সংস্থাগুলির জন্য ইথানল ব্যবহার কোনওভাবেই সস্তা বিকল্প নয়।
5
10
তিনি আরও জানান, পেট্রোলের দাম আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের উপর নির্ভরশীল হলেও, ইথানলের মূল্য নির্ধারিত হয় আখ, ভুট্টা বা অন্যান্য কৃষিজাত কাঁচামালের ভিত্তিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে। তাই ইথানল মেশানোর ফলে তেল সংস্থাগুলির ক্রয় খরচ কমে না।
6
10
তবে এর একটি বড় সুবিধা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে ইথানল তেল সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, এটি এক ধরনের সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে এবং জ্বালানির খরচের ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
7
10
আলোচনায় অংশ নিয়ে এলারা ক্যাপিটালের ডিরেক্টর জয় কালে জানান, ২০২৩ সালের পর উৎপাদিত অধিকাংশ নতুন গাড়িই ইতিমধ্যে E20-সঙ্গতিপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যদি E20-এর থেকেও বেশি ইথানল মিশ্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তাহলে গাড়ি নির্মাতাদের নতুন প্রযুক্তি ও ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিনে বিনিয়োগ করতে হবে।
8
10
তিনি আরও বলেন, ইথানলের শক্তি ঘনত্ব পেট্রোলের তুলনায় কম হওয়ায় বেশি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে গাড়ির মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে। ফলে যদি জ্বালানির দাম সেই অনুপাতে কমানো না হয়, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা সীমিত থাকতে পারে।
9
10
এদিকে, সুরানা স্পষ্ট করে বলেন, ইথানল মেশানোর ফলে রিফাইনারির উৎপাদন ক্ষমতার উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। বরং ইথানলের উচ্চ অকটেন বৈশিষ্ট্য রিফাইনারিগুলিকে আরও দক্ষভাবে পেট্রোল উৎপাদনে সাহায্য করে।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলের পাশাপাশি কমপ্রেসড বায়োগ্যাস, বায়োডিজেল এবং টেকসই বিমান জ্বালানির মত বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।