আজকাল ওয়েবডেস্ক: আটলান্টায় অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নামবে ইংল্যান্ড। ফুটবলের ইতিহাসে বহু স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী এই দুই দেশের লড়াই, তাই এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করেছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বহুবার ফুটবল মাঠেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ফুটবলের মঞ্চে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনার হাত দিয়ে করা গোল এবং প্রায় একক প্রচেষ্টায় করা তাঁর অবিশ্বাস্য গোলের সৌজন্যে ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
মারাদোনার দ্বিতীয় গোলটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে বাড়ি পাঠায় আর্জেন্টিনা।
এরপর ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেই হারের বদলা নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে অতীতের ইতিহাস বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিতে নারাজ আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
শনিবারের জয়ের পর তিনি বলেন, ‘এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। এর বাইরে আর কিছু নয়। আমরা শক্তিশালী একটি দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামব। তাদের একজন অসাধারণ কোচ রয়েছে। আমাদের পুরো মনোযোগ থাকবে শুধুমাত্র ফুটবলের ওপর।’
কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইস গেট ভাঙতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হল নীল-সাদা জার্সিধারীদের। সমর্থকদের টেনশন বাড়িয়ে লিওনেল মেসির দল সেমিফাইনালের টিকিট জোগাড় করল।
শেষ চারে আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইংল্যান্ড। মেসিদের এই জয় নিয়েও শুরু হয়ে গিয়েছে কটাক্ষ, হাসিঠাট্টা। কিন্তু লিওনেল স্কালোনির ছেলেরা লক্ষ্যে অবিচল। বহির্বিশ্বের কথা তাঁদের কান পর্যন্ত পৌঁছয় না।
তাঁরা জানেন যে কোনও সময়ে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারবেন। যে কোনও কঠিন ম্যাচের পাসওয়ার্ড তাঁদের জানা। তাই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ১-১ থাকার পরেও মেসি-আলভারেজরা চিন্তিত ছিলেন না।
সমর্থকদের রক্তচাপ বাড়লেও নীল-সাদার সৈনিকরা ছিলেন শান্ত, নির্বিকার। এক্সট্রা টাইমের ওই মাহেন্দ্রক্ষণ কি ভোলা সম্ভব! আলভারেজের রামধনুর মতো বাঁক খাওয়ানো শট।
সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার কোবেল শরীর ছুড়ে দিয়েও বলের নাগাল পেলেন না। ওই অসম্ভব গোলের পরে আলভারেজ সতীর্থদের আলিঙ্গনে। স্কোর বোর্ড বদলে হয়ে গেল আর্জেন্টিনা ২ সুইজারল্যান্ড ১।
ধারাভাষ্যকাররা বলে উঠলেন, ‘এই হল চ্যাম্পিয়ন দলের কোয়ালিটি।’ আলভারেজ এগিয়ে দেওয়ার পরে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়ে গেলেন লাওতারো মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জিতল।
যখন মনে হবে রাস্তা কঠিন হচ্ছে, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে। একবার নয়, বারবার। এই বিশ্বকাপে বারংবার তা দেখা যাচ্ছে।















