আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্জেন্টিনা রেফারির সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে ব্রিল এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন।
১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
শেষ চারের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইংল্যান্ড। ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে ভিএআরের হস্তক্ষেপে বদলে যাওয়া এমবোলোর লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত।
বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের একাংশ বারবার অভিযোগ তুলেছে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আর্জেন্টিনা সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর নতুন করে সেই আলোচনা শুরু হয়।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ড্যান এনডয়ের গোলে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। এর কিছুক্ষণ পর হল দখলের লড়াই হয় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও সুইজারল্যান্ডের তারকা এমবোলোর মধ্যে। প্রথমে রেফারি জোয়াও পিনেইরো আর্জেন্টাইন পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
ভিএআরের সিদ্ধান্তে বলা হয়, পারেদেসের সংস্পর্শের আগেই এমবোলোর পড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ফলে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয় এবং এমবোলোকেই প্লে অ্যাক্টিং করার অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। আগেই একটি হলুদ কার্ড থাকায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস স্ট্রাইকারকে।
এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে যায় সুইজারল্যান্ডের ফুটবলাররা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাটি। অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। আবার অনেকে দাবি করেন, এমবোলো ফাউল আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
১০ জন নিয়েও দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। তারা প্রায় ৪০ মিনিটের বেশি সময় আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে এবং ম্যাচ
টাইব্রেকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের অসাধারণ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ লুকাননি সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেন, এমবোলোর বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনও কারণ ছিল না। তিনি বলেছেন, ''এটি একেবারেই সাধারণ একটি ঘটনা ছিল। খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এমন একটি নিয়মের কারণে আমরা শাস্তি পেলাম, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ভিএআরের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। একটা সিদ্ধান্ত ম্যাচ বদলে দেয়।”
লাল কার্ড দেখার পর চোখের জলে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন। ইয়াকিনও তাঁর খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি ওকে দোষ দিচ্ছি না। দলকে সাহায্য করতে পারেনি বলে খুব ভেঙে পড়েছে। এটি রেফারিংয়ের ভুল ছিল।”















