আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাব ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিতে খতিয়ে দেখা হবে।

সুইস সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপের ফরম্যাট ১০০% সফল। তাঁর মতে, বিশ্বকাপকে আরও বেশি দেশের জন্য উন্মুক্ত করাই ফিফার লক্ষ্য।

এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট হলেও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী দলগুলিই। তবুও ইনফান্তিনো মনে করেন, বিশ্বকাপে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ অবশ্যই এমন একটি বিষয়, যা এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিতে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।’

ইনফান্তিনোর কথায়, ‘বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্য। বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার থাকা উচিত। এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দলগুলোর মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে।’

ছোট দেশগুলিকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘যদি ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগই না দেওয়া হয়, তাহলে তারা নিজেদের উন্নত করার অনুপ্রেরণা পাবে না।’

যদি শেষ পর্যন্ত ৬৪ দলের প্রস্তাব অনুমোদন পায়, তাহলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। আগামী বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। পাশাপাশি শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি থার্ড পজিশন টিম মিলিয়ে মোট ৩২টি দল নকআউটে উঠেছে। 

অন্যদিকে, ৬৪ দলের ফরম্যাট চালু হলে ১৬টি গ্রুপে চারটি করে দল থাকবে। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুই দল সরাসরি রাউন্ড অফ ৩২-তে পৌঁছে যাবে। সেক্ষেত্রে থার্ড পজিশনে থাকা দলগুলির ক্ষেত্রে জটিল হিসাবের আর প্রয়োজন হবে না।

তবে এই পরিবর্তনের ফলে টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১২৮। এতে ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা, সূচি এবং ক্লাব ফুটবলের ক্যালেন্ডার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। উয়েফা, বিভিন্ন ঘরোয়া লিগ এবং খেলোয়াড়দের তরফেও আপত্তি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।