আজকাল ওয়েবডেস্ক: একেই বলে ফিরে আসা। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ইংল্যান্ড। তার পরেই চিত্রনাট্যে ব্যাপক পরিবর্তন। ৭৫ মিনিটে হ্যারি কেনের গোলে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড।  তার ১১ মিনিট পর ফের হ্যারি কেনের গোল। শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশির পরে স্কোরলাইন ইংল্যান্ড ২ ডিআর কঙ্গো ১।

ইংল্যান্ডের ফুটবলের প্রিন্স হ্যারি মাত্র ১১ মিনিটে ম্যাচের রং বদলে দিলেন। বহু ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে যাওয়া শব্দবন্ধনী ফের ব্যবহার করতেই হয় হ্যারি কেনের জন্য, কামেথ দ্য আওয়ার, কামেথ দ্য ম্যান। এরকম এক সময়ে তাঁর আবির্ভাবের অপেক্ষায় ছিল গোটা ইংল্যান্ড। প্রিন্স হ্যারি বিমুখ করেননি ইংল্যান্ডকে। ফুটবল সম্রাট পেলেকে টপকে গেলেন হ্যারি। কেনের গোল এখন ১৩। চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ-পাঁচটা গোল হয়ে গেল হ্যারি কেনের। 

বিশ্বকাপে শেষ ১৬-য় পৌঁছল ইংল্যান্ড। ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল এদিনই। তবে শেষ হওয়ার মতো খেলেনি আফ্রিকার দেশটি। কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি হয়ে উঠেছিলেন দুর্ভেদ্য। তাঁকে টপকে গোল করে কার সাধ্যি! ইংল্যান্ডের ঢেউয়ের মতো আক্রমণ এসে থমকে যাচ্ছিল এমপাসির সামনে। 

তবে এর মধ্যেও যদি-কিন্তুর গল্প থাকতে পারে। হ্যারি কেন কি পেনাল্টি থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেন? এমপাসির হাত কি হ্যারি কেনের পা স্পর্ষ করেছিল? তারও আগে কি ইংল্যান্ড পেনাল্টি পেতে পারত? সে সব নিয়ে চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠতেই পারে। ইংল্যান্ড হেরে গেলে আরও তুফান উঠত। তবে শেষমেশ অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। 

ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। ১–০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোলটি করেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। বক্সের বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত ডান পায়ের শটে বল ইংল্যান্ডের জালে জড়ান তিনি। 

তবে এরপর একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে ইংল্যান্ডকে বারবার হতাশ করেন। বিশেষ করে বেলিংহামকে দু'বার ব্যর্থ করেন তিনি। 

দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়াতে থাকে ইংল্যান্ড। অবশেষে ৭৫ মিনিটে সমতা ফেরান হ্যারি কেন। ৮৬ মিনিটে ফের হ্যারি কেন গোল করে ২-১ করেন। 
ম্যাচে একাধিকবার দারুণ সেভ করে কঙ্গোকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেন গোলরক্ষক এমপাসি। তবে শেষ পর্যন্ত কেনের ক্লাস ও ইংল্যান্ডের চাপ সামলাতে না পেরে হেরে যায় আফ্রিকার দলটি। শেষ ১৬-য় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।