আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের প্রাক্তন স্পিনার লক্ষ্ণণ শিবরামকৃষ্ণণ সম্প্রতি শিরোনামে এসেছেন। ক্রিকেটার জীবনে তিনি বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষের পরেও একইরকম ব্যবহার তিনি পান বলে অভিযোগ করেন।
একসময়ের সম্ভাবনাময় স্পিনার
একাধিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সতীর্থরাই তাঁর গাত্রবর্ণ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। নিজেদের ড্রেসিং রুমে থাকার চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাজঘরে থাকাতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। এরকম অজানা সব কথা তিনি প্রকাশ করেন। ধারাভাষ্য ছাড়ার পিছনেও রয়েছে বর্ণবিদ্বেষের আখ্যান।
একটি ঘটনায় কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর তাঁকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন বলে জানা যায়। তরুণ বয়সে তাঁকে ‘মদ্যপ’ বলেও চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি মদ্যপানে আসক্তি ও বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়াই করেন। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি রহস্যময় পোস্ট করেন, ''ক্রিকেট জীবন নয়। এটি জীবনের একটি অংশ মাত্র। মোক্ষ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।''
একজন ভক্ত তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ''আপনাকে কে আঘাত করেছে?'' শিবার জবাব, ''কে দেয়নি?''
১৯৮৭ সালে প্রতিশ্রুতিমান এক স্পিনারের ক্রিকেটার জীবন শেষ হওয়ার পর শিবা ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
বহু বছর ধরে তিনি আইপিএলে পরিচিত কণ্ঠ ছিলেন। কিন্তু কোভিড লকডাউন তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলে।
শিবাকে বলতে শোনা যায়, ''আমি পুরোদস্তুর ভেঙে পড়েছিলাম এবং আয়নায় নিজেকে দেখতে চাইতাম না। আমি দু-এক পেগ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম, কারণ কিছুই সহ্য করতে পারছিলাম না। যখনই জেগে থাকতাম, মনে হত আমি মারা যাব।''
তিনি স্বীকার করেন, ঘুমানোর জন্য তিনি অ্যালকোহলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। কখনও কখনও তাঁর মনে আত্মহত্যার চিন্তাও আসত।
শিবরামকৃষ্ণণ বলেন, ''আমরা দুবাইয়ে যখন বেড়াতাম, সেখানে গাড়ির গতি সীমা ছিল না। গাড়ি খুব দ্রুত চললে, আমার মনে হত, দরজা খুলে লাফ দিই। কিছু একটা আমাকে বোকামি করা থেকে থামিয়ে দিত।''
মানসিক চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শিবরামকৃষ্ণণ হ্যালুশিনেশন অনুভব করতে শুরু করেন। শিবা বলছেন, ''চোখ বন্ধ করলে এমন সব ছবি দেখতাম, যা কল্পনাও করা যায় না। খুবই ভয়ঙ্কর সেই সব ছবি। চোখ খুললে কিছুই নেই। কিন্তু এত ক্লান্ত লাগত যে ঘুমাতে চাইতাম। আবার চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্য, তারপর চোখ খুলে ফেলতাম, ঘুমটাই উধাও হয়ে যেত।''
নিজের লড়াই নিয়ে ভাবতে বসে শিবা বলছেন, ''প্রতিবারই নিজেকে আবর্তে জড়িয়ে ফেলার পরে বাইরের পৃথিবী বলেছে, দেখেছো? আমি তো আগেই বলেছিলাম, মদ্যপানই আসল কারণ। আমি তো আগেই বলেছিলাম।''















