আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় সদ্য সমাপ্ত অ্যাশেজ সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড পুরো সফর নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা শুরু করেছে।

বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১–৪ ব্যবধানে হেরে গিয়েছে। যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা চতুর্থবারের মতো অ্যাশেজ হারতে হল থ্রি লায়ন্সদের।

ইসিবি প্রধান রিচার্ড গুল্ড ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, দল তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবে তিনি ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপের কথাও তুলে ধরেন। গুল্ডের মতে, এই সিরিজ থেকে দলের শেখার মতো অনেক বিষয় রয়েছে।

এখন ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ২০২৭ সালে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করা। তিনি নিশ্চিত করেছেন, সফর নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে বোর্ডের তরফে।

এক বিবৃতিতে গুল্ড বলেন, ‘এই সফর থেকে আমরা বেশ কিছু শিক্ষা নিয়েছি। দল তাঁদের ভুলত্রুটি পিছনে ফেলে দ্রুত উন্নতি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের মূল লক্ষ্য ২০২৭ সালে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করা। এবারের রিভিউ মিটিংয়ে সফরের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ক্রিকেটারদের আচরণ, পরিস্থিতির মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

তবে গুল্ড আরও জানান, ইংল্যান্ড দল এবার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।

তবে সেই পরিবর্তন কী হতে পারে সে সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘সিরিজে কিছু শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখে গিয়েছে ক্রিকেটারদের তরফে। বিশেষ করে মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে কঠিন লড়াইয়ে জয়। কিন্তু সব পরিস্থিতি ও পর্যায়ে আমরা ধারাবাহিক হতে পারিনি, এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াই অ্যাশেজ ধরে রাখার যোগ্যতা দেখিয়েছে। ইংল্যান্ড দল এখন শ্রীলঙ্কায় যাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে। আগামী দিনে আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করব।’

উল্লেখ্য, এবারের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন পর একটি টেস্ট জয়ের খরা কাটাতে পারলেও সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে, আবারও অ্যাশেজ হাতছাড়া হয়েছে।

ব্রেন্ডন ম্যাকালাম প্রধান কোচ হওয়ার পর থেকে ইংল্যান্ড ৪৬টি টেস্টের মধ্যে ২৬টিতে জয় পেয়েছে। যার মধ্যে পাকিস্তানে ঐতিহাসিক ৩–০ হোয়াইটওয়াশও রয়েছে।

স্টোকস–ম্যাকালাম জুটির জয়ের হার ৫৬.৫২ শতাংশ। যা প্রাক্তন অধিনায়ক জো রুটের সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫–২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

অ্যাশেজ শেষে তারা ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনটি করে টেস্ট খেলবে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড।

প্রসঙ্গত, এর আগের তিনটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সংস্করণেই ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে বেন স্টোকসের দল। এবার অ্যাশেজে হারের পর বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাকালামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।