আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য সুখবর। আইএসএল শুরুর ঠিক তিনদিন আগে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে লাল হলুদ সাপোর্টাররা। অবশেষে সমস্যার সমাধান। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই নিজেদের আইএসএলের ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাহায্যে বিনা খরচে সল্টলেক স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি পেল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের মান রাখতে ইমামি কর্তাদের যুবভারতীতে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করবেন লাল হলুদ কর্তারা।

শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, 'সঙ্কট থেকে বেরোনোর জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্কট থেকে মুক্ত করেছেন। আমরা বিনা খরচে সল্টলেক স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে পারব। ম্যাচ আয়োজন করতে পারব। যে ফুটবলপ্রেমীরা ম্যাচ দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে ছিলেন, তাঁদের জন্য সুখবর। তাঁদের কাছে অনুরোধ করব, দলে দলে এসে টিমকে সমর্থন করুন। দলকে উজ্জীবিত করুন। পাশাপাশি কোম্পানির কাছেও আবেদন রেখেছি, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সম্মান জানিয়ে আগামী দিন সল্টলেক স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন করা হয়।' 

১৪ ফেব্রুয়ারি মোহনবাগান-কেরল ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আইএসএল। কয়েকদিন আগে পর্যন্তও অনিশ্চিত ছিল দেশের একনম্বর লিগের ভাগ্য। কিন্তু শেষপর্যন্ত জট কেটেছে। আবার ফুটবল ফিরছে ময়দানে। তবে চলতি বছর নমঃ নমঃ করে হবে আইএসএল। বদলেছে ফরম্যাট। কমেছে বাজেটও। বেঙ্গালুরু এফসির মতো দল ফুটবলারদের বেতন কমানোর অনুরোধ জানায়। কোনওরকমে মাত্র চার মাসের মধ্যে শেষ করে দেওয়া হয়ে আইএসএল। যার ফলে প্রত্যেক দলের বাজেটেও টান পড়েছে।

হোম ম্যাচের জন্য যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন নিতে হলে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় ক্লাবগুলোকে। এই মরশুমে যা যথেষ্ট কঠিন। সাধারণত বরাবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই নিজেদের হোম ম্যাচগুলো খেলে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এবার খরচ কমাতে যুবভারতী নিতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়, কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে নিজেদের হোম ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এই স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছোট। আসন সংখ্যা কম। মাত্র ১২ হাজার দর্শক ধরে। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক সংখ্যা তার থেকে অনেক বেশি। সাধারণত যুবভারতীতে আইএসএলের ম্যাচ প্রতি গড়ে ১৫ থেকে ১৮ হাজার সমর্থক আসে। সপ্তাহান্তে ম্যাচ হলে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারেও পৌঁছয়। তারওপর কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম দক্ষিণ কলকাতার এক প্রান্তে। যাতায়াতে সমস্যা। রাতে ম্যাচ শেষে বাড়ি ফিরতে সমস্যায় পড়তে পারে সমর্থকরা। এই সমস্যাগুলোর কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দ্বারস্থ হন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। এক কথায় তাঁদের সংকট দূর করেন তিনি। বিনামূল্যে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ব্যবহারের অনুমতি দেন মমতা ব্যানার্জি।