আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৪ বছর আগের কথা। ২০১২ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের উদ্বোধনী ম্যাচ। ২০১১ ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ফুটছে তারকাখচিত ভারতীয় দল। অন্যদিকে সম্পূর্ণ নতুন আফগানিস্তান দল। সবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। মিনোসদের বিরুদ্ধে ম্যাচ ভারতের। তৎকালীন আফগান অধিনায়ক নাওরোজ মঙ্গল টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাট করতে পাঠান। ওপেন করতে নামেন বীরেন্দ্র শেহবাগ এবং গৌতম গম্ভীর। বোলিং ক্রিজে ৬ ফিট ২.৫ ইঞ্চির একজন আনকোড়া বোলার। শাপুর জাদরানের নাম হয়ত এখনও মনে রেখেছেন গম্ভীর এবং শেহবাগ। ওপেনিং স্পেলে দুই তারকাকে ফিরিয়ে দেন। ১০ এবং ৮ রানে যথাক্রমে ফেরেন গম্ভীর এবং শেহবাগ। তারপর থেকে অন্তরালে চলে যান শাপুর জাদরান। দীর্ঘ বছর পর আচমকা ভেসে আসে আফগান তারকার খবর। যা শুনে দুঃখিত ক্রিকেটমহল। 

বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আফগান বোলার। রয়েছেন ভারতে। এক কঠিন অসুখের সঙ্গে লড়ছেন ৩৮ বছরের শাপুর। হেমোফাগোসাইটিক লিম্পোহিস্টিওবসাইটোসিস রোগে আক্রান্ত। খুবই ভয়ানক রোগ। দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে। শরীরকে সুরক্ষিত করার বদলে স্বাস্থ্যকর টিস্যুকে আক্রমণ করে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যকৃত, প্লীহা এবং অস্থি মজ্জা। মূলত বাচ্চাদের হয় এই অসুখ। তবে প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারে। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন শাপুর। গতবছরের অক্টোবর মাসে প্রথম অসুস্থ হয়। শুরুতে মনে হয়েছিল টিবি। কিন্তু পরে আসল অসুখ জানা যায়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় কাবুল থেকে দিল্লিতে আনা হয়। শাপুরের ছোট ভাই ঘামাই জাদরান বলেন, 'আফগানিস্তানের চিকিৎসকরা আমাদের ভারতে আসার পরামর্শ দেয়। সবাই জানে ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত। সেই কারণেই আমরা এখানে এসেছি।' 

শাপুরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে সাহায্য করেন রশিদ খানও। ১৮ জানুয়ারি ভারতে নিয়ে আসা হয় আফগান বোলারকে। দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শাপুরের পাশে আছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের বর্তমান এবং প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। প্রাক্তন অধিনায়ক আসগর আফগান শুধু ফোনে খবরাখবরই নেননি, হাসপাতালে গিয়ে সাহায্য করেন। এখনও মাঝেমধ্যেই হাসপাতালে যান। বিশ্বকাপ চলাকালীন রশিদ খান এবং আফগানিস্তান দলের বাকিরাও হাসপাতালে দেখতে যান। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলা আল্লাহ ঘাজানফারও হাসপাতালে যান। আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও অসুস্থ ক্রিকেটারের ভাইকে ফোন করে খবরাখবর নেন। হাই-প্রোফাইল লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইতে নারাজ জাদরান পরিবার। শাপুরের ভাই ঘামাই বলেন, 'আমাদের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছ। আমাদের আর্থিক সাহায্য চাই না। শুধু প্রার্থনা দরকার।' ক্রিকেট ছাড়ার পর কাবুলে সফল ব্যবসায়ী শাপুর। কিন্তু বর্তমানে শয্যাশায়ী। আফগানিস্তানের একসময়ের তারকা পেসার জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচ খেলছেন। শেষপর্যন্ত জীবনযুদ্ধে কি জিততে পারবেন? রইল প্রার্থনা।