আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুম্বইয়ের ডেরায় পিছিয়ে থেকেও জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে খেতাব লড়াইয়ে দারুণভাবে ফিরে এসেছে। পাঁচ থেকে একলাফে শীর্ষস্থান। পরপর দুই ম্যাচ জিতে সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে লাল হলুদ। তবে ম্যাচের শুরুতে সমর্থকদের মনে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল অস্কার ব্রুজোর দল। শুরুতেই এক গোল হজম। তারপর মুম্বইয়ের একের পর এক গোল মিস। যার ফলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। দলের খেলায় খুশি না হলেও, তিন পয়েন্টে বড় স্বস্তি। অস্কার বলেন, 'ফ্যানদের ধন্যবাদ। ওদের উপস্থিতি আমাদের বাড়তি তাগিদ জুগিয়েছে। মরশুমের সেরা ম্যাচ ছিল না। কঠিন ম্যাচ। কাউন্টার অ্যাটাকে ওরা আক্রমণে উঠছিল। তবে আমরা মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। বিরতিতে দলকে আত্মবিশ্বাস দিই। গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছি। প্রথমার্ধের খেলায় আমি খুশি ছিলাম না। মুম্বই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভাল খেলেছি। মিগুয়েল এবং নন্দ নামার পর আমরা ম্যাচে ফিরি। ওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শেষমেশ আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।' 

মুম্বই ম্যাচের আগে মরশুম শেষে ক্লাব ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন অস্কার। মাঝ মরশুমে কী এটা প্রাসঙ্গিক ছিল? খেতাব দৌড়ে থাকা দলের ওপর কি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই? এই ঘোষণার কি এটাই আদর্শ সময়? ইস্টবেঙ্গল কোচের দাবি, প্লেয়ারদের ক্লাবের অন্দরমহলের পরিস্থিতি জানার অধিকার আছে। ফুটবলাররা জানতে চেয়েছিল। অস্কার বলেন, 'সঠিক সময় না ভুল সময় সেটা বলতে পারব না। আমার মনে হয়েছে জানানো উচিত। একটা পেশাদার ক্লাবের অন্দরমহলে কী চলছে সেটা প্লেয়ারদের জানা দরকার। আমার লক্ষ্য প্লেয়ারদের এবং দলকে রক্ষা করা।' প্রথমার্ধে স্কোরলাইন এবং ফুটবলের মানের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। বিরতিতে অস্কারের টোটকায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আমূল পরিবর্তন। হাফ টাইমে কী বলেছিলেন ফুটবলারদের? 

অস্কার বলেন, 'আমরা এগিয়ে থাকলে আমি কড়া ব্যবহার করি। কিন্তু পিছিয়ে থাকলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে প্লেয়ারদের বোঝানোর চেষ্টা করি। প্লেয়ারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াই। আমাদের মরশুমটা ভাল যাচ্ছে। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারব ইস্টবেঙ্গল দেশের সেরা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। আমি এখনই খেতাব নিয়ে ভাবতে চাই না। আমাদের এখনও তিনটে ফাইনাল বাকি। টেবিলের ওপরের দিকে শেষ করতে চাই।' আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে। খেলা বাকি মোহনবাগান এবং ইন্টার কাশির বিরুদ্ধে। ডার্বি খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচ হতে চলেছে। তবে আপাতত শুধুই পাঞ্জাব ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন অস্কার। বুধবার চেন্নাইয়ের সঙ্গে পাঞ্জাবের ম্যাচ আছে। সেদিকে নজর থাকবে অস্কারের। সোমবারের ম্যাচে সমর্থকদের আসার আহ্বান জানালেন। যুবভারতীতে ফুলহাউজ চাইছেন ব্রুজো।