আজকাল ওয়েবডেস্ক: উরুর পেশিতে চোটের কারণে আসন্ন দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ফলে বিশ্বকাপের আগে তাঁর ফিটনেসকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সৌদির ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পান রোনাল্ডো। এরপর থেকে চিকিৎসা চলছে তাঁর। দল ঘোষণার সময় পর্তুগালের ম্যানেজার রবার্তো মার্টিনেজ জানান, বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে সতর্কতার কারণেই তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
মার্তিনেস বলেন, ‘এটা সামান্য পেশির চোট। আমরা মনে করছি এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যেই ক্রিশ্চিয়ানো ফিট হয়ে যাবে। এই মরশুমে রোনাল্ডোর শারীরিক সক্ষমতা দেখলে বোঝা যায় ও ফিট রয়েছে।’
পর্তুগাল ২৮ মার্চ মেক্সিকোর বিরুদ্ধে আজতেকা মাঠে খেলবে এবং ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আটলান্টায় নামবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলেও ঝুঁকি না নিয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।
দীর্ঘ মরশুমের পর খেলোয়াড়দের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পর্তুগাল শিবির। এই তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য নাম বার্নার্ডো সিলভা, তাঁকেও স্কোয়াডে রাখা হয়নি।
তবে রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতেও শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। দলে রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস ও জোয়াও ফেলিক্সের মতো ফুটবলাররা। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মাতেউস ফার্নান্দেজ। প্রায় দু’বছর পর দলে ফিরেছেন গঞ্জালো গুইদাস।
৪১ বছর বয়সি রোনাল্ডো এখনও পর্তুগালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, তাঁর গোলসংখ্যা ১৪৩। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে রোনাল্ডোই বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। মার্তিনেজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই চোট রোনাল্ডোর বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনায় কোনও প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, ‘রোনাল্ডোর বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেই।’
আগামী জুনে শুরু হতে চলা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে রোনাল্ডো সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ১৭ জুন হিউস্টনে নিজেদের অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হবে এই প্রতিযোগিতা।
এই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে রোনাল্ডোর সামনে। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়তে পারেন তিনি। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ না পাওয়ায় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে।
ফিফা ফ্রেন্ডলির জন্য পর্তুগাল স্কোয়াড:
দিয়েগো কোস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা, ম্যাথিউজ নুনেস, দিয়োগো ডালট, জোয়াও ক্যানসেলো, নুনো মেন্ডেস, গঞ্জালো ইনাসিও, রেনাতো ভেগা, অ্যান্টোনিও সিলভা, থমাস আরাউজো, রুবেন নেভেস, সামু কোস্তা, ম্যাথিউজ ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিটিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো মোরা, রিকার্ডো হোর্তা, পেদ্রো গঞ্জালভেজ, জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সিসকো ট্রিঙ্কাও, ফ্রান্সিসকো কনসেসাও, রাফায়েল লিও, পেদ্রো নেটো, গঞ্জালো গুইদাস, গঞ্জালো ব়্যামোস।
