আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘চমৎকার এক সৌজন্য’, নোবেল শান্তি পুরস্কার হাতে এক গাল হাসি দিয়ে এমন মন্তব্যই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কাছ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল গ্রহণ করার সময় ক্যামেরার সামনে পোজ দেন তিনি।

ট্রাম্পের সেই হাসির মধ্যে লুকিয়ে ছিল অনেক কিছুই। নোবেল শান্তি পুরস্কার বহুদিন ধরেই যে ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে তা আর কারোর জানতে বাকি নেই।

এমনকী, প্রকাশ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার চাওয়া বা আকারে ইঙ্গিতে আবেদন জানাতেও তিনি কখনও পিছপা হননি। মাচাদো শুধু ট্রাম্পের হাতে মেডেল তুলে দেননি, সেটি হোয়াইট হাউসেই রেখে যান।

ট্রাম্প প্রকাশ্যেই মেডেল গ্রহণ করে একে ‘পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক’ বলে অভিহিত করেন। ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী স্বেচ্ছায় তাঁর মেডেল অন্যের হাতে তুলে দিলেন।

তবে এই নোবেল লেনদেনের পরে প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কি এভাবে নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর করা যায়? গত কয়েকদিন ধরেই মাচাদোর নোবেল ট্রাম্পের হাতে ওঠার প্রশ্ন উঠছিল।

সেই প্রসঙ্গে মাচাদোর হোয়াইট হাউস সফরের কয়েক দিন আগেই গোটা বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছিল নোবেল ইনস্টিটিউট। রবিবার ইনস্টিটিউট আবারও জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তর, ভাগাভাগি বা প্রত্যাহার করা যায় না।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রীর সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নোবেল কমিটির তরফে। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পকে দিতে পারেন তিনি।

এক বিবৃতিতে নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট জানায়, নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধি অনুযায়ী পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও আপিলের সুযোগ নেই।

পাশাপাশি, পুরস্কার ঘোষণার পর বিজয়ীদের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে নোবেল কমিটি কোনও মন্তব্য করে না বলেও স্পষ্ট করা হয়। নোবেল কমিটি ও নোবেল ইনস্টিটিউট এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হয়ে গেলে তা আর প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।’

মানব বা সমাজ কল্যাণে ‘সর্বাধিক অবদান’ রাখার জন্য প্রদত্ত নোবেল পুরস্কারগুলির মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কারকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয়। চলতি বছর এই পুরস্কারই দেওয়া হয় মাচাদোকে।

তবে পরে তিনি ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্পের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেবেন।

মাচাদোর বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার মানুষের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপহার। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল তুলে দিয়েছি। আমাদের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে।’

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘মারিয়া তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার আমাকে উপহার দিয়েছেন। আমি যে কাজ করেছি তার জন্য। পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন। ধন্যবাদ, মারিয়া!’