মোহনবাগান - ৫ (ম্যাকলারেন-হ্যাটট্রিক সহ ৪, অ্যালবার্তো)
ওড়িশা এফসি - ১ (রহিম)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুবভারতীতে ম্যাকা ম্যানিয়া। ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক সহ চার গোল জেমি ম্যাকলারেনের। প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ। শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ওড়িশা এফসিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান। মহমেডানের পর ওড়িশার বিরুদ্ধে পাঁচ। মরশুম শুরু থেকে দুরন্ত ছন্দে ম্যাকলারেন। এদিন প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল। ৪ ম্যাচে ৭ গোল। প্রথম তিনে তিন। শুক্র সন্ধেয় আরও চার গোল যুক্ত হল। আগের আইএসএলে মোট ১২ গোল ছিল অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপারের। এবার মাত্র চার ম্যাচেই তার ৫০ শতাংশ অতিক্রম করলেন। অন্যদিকে চারে চার সবুজ মেরুনের। কেরল ব্লাস্টার্স, চেন্নাইন এফসি, মহমেডানের পর ওড়িশা এফসি। চার জয়ে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগ টেবিলের একনম্বরে মোহনবাগান। গোল পার্থক্যে (+১২) বাকিদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে সার্জিও লোবেরার দল।
এদিন মোহনবাগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসেবে অনুযায়ী, মোট ১৯,৭৭৭ সমর্থক হয়েছিল। অর্ধেক স্টেডিয়ামের মন ভরিয়ে দেন ম্যাকলারেন। মহমেডানের বিরুদ্ধে ফাইভ স্টার পারফরম্যান্সের পর এদিনও দুরন্ত জয়। আবারও পাঁচ গোল। আগের ম্যাচে শুরুতে এক গোল হজম করে পাঁচ গোল দিয়েছিল সবুজ মেরুন। এদিন তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর এক গোল হজম করে বাগান। বিরতিতে স্কোরলাইন ছিল ৪-১। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল যোগ করে সবুজ মেরুন। চার গোল ম্যাকলারেনের। এক গোল অ্যালবার্তো রডরিগেজের। কমজোরী ওড়িশাকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল বাগান। থুড়ি জেমি। আইএসএলের ইতিহাসে তৃতীয়বার এক ম্যাচে চার গোলের রেকর্ড। হ্যাটট্রিক করে বেজায় খুশি অজি তারকা। ম্যাকলারেন বলেন, 'পরপর দুই সপ্তাহে গোলের মধ্যে থেকে ভাল লাগছে। আগের সপ্তাহেও হ্যাটট্রিক করার সুযোগ ছিল। কিন্তু পারিনি। সেই আক্ষেপ মিটে গেল। হ্যাটট্রিক করে অবশ্যই ভাল লাগছে।'
ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন জেমি। দিমিত্রি পেত্রাতোসের ব্যাকহিল থেকে শুভাশিসের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে প্রথম গোল। তার ১০ মিনিট পর ২-০। ম্যাচের ২৪ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে ডান পায়ের শটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন ম্যাকলারেন। ম্যাচের ৪২ মিনিটে ৩-০ করেন অ্যালবার্তো রডরিগেজ। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শটে দারুণ গোল বাগান ডিফেন্ডারের। প্রাক্তন দলকে দাঁড়াতেই দেননি লোবেরা। ওড়িশাকে হাতের তালুর মতো চেনেন স্প্যানিশ কোচ। এদিন দলে চারটে পরিবর্তন করেন। দলে ফেরেন শুভাশিস বসু, মেহতাব সিং, দিমিত্রি পেত্রাতোস এবং লিস্টন কোলাসো। উইং থেকে মাঝমাঠ, সবেতেই বিপক্ষকে টেক্কা দেয় বাগান। তবে তৃতীয় গোলের পর এক মিনিটের মধ্যে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান কমান রহিম আলি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় হ্যাটট্রিক ম্যাকলারেনের। গোলের পর উচ্ছ্বাসে গ্যালারিতে বল পাঠিয়ে কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গাছাড়া মনোভাব দেখা যায় মোহনবাগানের খেলায়। দুই দলই কয়েকটা হাফ চান্স পায়। কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। শেষলগ্নে নিজের এবং দলের গোল সংখ্যা বাড়ান জেমি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে মনবীরের পাস থেকে একাই বল টেনে নিয়ে গিয়ে গোলে রাখেন ম্যাকলারেন।
