আজকাল ওয়েবডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ডিসেম্বর মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ নির্বাচিত হলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক।

ডিসেম্বর মাসে স্টার্ক মোট ৩১টি উইকেট শিকার করেছেন। পাশাপাশি, অ্যাশেজে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেড টেস্টে তাঁর করা দুটি মূল্যবান অর্ধশতরান অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা নেয়।

এই স্বীকৃতি পেয়ে প্যাট কামিন্সের পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে আইসিসি মেনস প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার জিতলেন স্টার্ক। ফলে প্রায় দু’বছরের অপেক্ষার অবসান হল।

আইসিসির তরফে দেওয়া এই মাসিক সম্মানের জন্য তিনি পিছনে ফেললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাস্টিন গ্রিভস ও নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই পার্থ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০ উইকেট নিয়ে স্টার্ক নিজের উপস্থিতি জানান দেন।

উল্লেখ্য, সেই দলে ছিলেন না কামিন্স এবং হ্যাজলউড। কার্যত একা হাতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপ তছনছ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি তারকা পেসার। এরপর ব্রিসবেন টেস্টে তিনি নেন আটটি উইকেট এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান করেন, যা সিরিজের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পরবর্তী অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন টেস্টেও নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন স্টার্ক। দুই ম্যাচেই চারটি করে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি, নিচের দিকে ব্যাট করতে নেমে রান করে দলকে সাহায্য করেন।

বল ও ব্যাট দু’দিকেই তাঁর নিয়মিত অবদান অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জুড়ে আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় স্টার্ক বলেন, ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সত্যিই সম্মানের। তার ওপর সফল একটি হোম অ্যাশেজ সিরিজের পর এই স্বীকৃতি পাওয়া আরও স্পেশাল। ঘরের মাঠে এমন ঐতিহ্যবাহী সিরিজ জেতার অংশ হতে পারা আমাদের সকলের কাছেই দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দল হিসেবে গত কয়েক বছরে আমরা বেশ কিছু অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছি। এখন লক্ষ্য সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী বছরের আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।’

সিরিজ জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নতুন বল ও মূল স্পেলগুলো স্টার্কের হাতেই তুলে দেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। এই কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়, কারণ স্টার্কের প্রাথমিক উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং জুটি ভাঙার দক্ষতা বারবার ম্যাচের গতি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ঘুরিয়ে দেয়।

ডিসেম্বর মাসের অ্যাশেজ টেস্টগুলোতে স্টার্কের ১৬টি উইকেট ও দুটি হাফ-সেঞ্চুরি তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের দক্ষতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল।