আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোল করে শূন্যে হৃদয় আঁকেন তিনি। এটাই তাঁর গোল উদযাপনের স্টাইল। ভক্তরা আদর করে ডাকেন, ''ও মারিয়া, ও মারিয়া।''

লুসেইল স্টেডিয়ামের ফাইনালেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। আবেগাপ্লুত ডি মারিয়া গোল করে শূন্যে হৃদয় আঁকেন। কাঁদেন। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পরে বিশ্বজয়ের পরও ডি মারিয়ার চোখে ছিল জল। 

বড় মঞ্চের খেলোয়াড় মারিয়া। ২০০৮ অলিম্পিক গেমসের ফাইনালে গোল ছিল তাঁর। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে মারিয়ার গোলেই জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালিসিমা-তেও মারিয়ার নাম ছিল স্কোরলাইনে। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটির মালিকের নাম অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে চিরে দিয়ে মারিয়ার বাঁ পা আলপনা এঁকে দিয়েছিল। তার পরেই আবেগের বিস্ফোরণ মারিয়ার।  

সেই মারিয়া এবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিও মেসির মধ্যে পার্থক্যের কথা জানালেন। 

দুই মহাতারকার সঙ্গেই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মারিয়ার। ক্লাব দলে রোনাল্ডোর সঙ্গে একই ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। আবার জাতীয় দলে লিও মেসির দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। 

এহেন আর্জেন্টাইন তারকা মারিয়া জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন আগেই। যদিও জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন এখনও তাঁর হৃদয়ে। এগিয়ে আসছে আরও একটি বিশ্বকাপ। সেই কারণেই হয়তো আরও বেশি করে জাতীয় দলে ফেরার বাসনা তাঁর মধ্যে কাজ করছে। 

একটি স্প্যানিশ দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে  রোজারিও সেন্ট্রালের ফরোয়ার্ড বলেছেন, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা যে আমার নেই তা নয়। তবে আমি আমার সময় ফেলে এসেছি। 

জাতীয় দলের হয়ে মারিয়া যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন। 

ফুটবল জীবনে ৩৭টি ট্রফি তিনি জিতেছেন। কাতার বিশ্বকাপের পরই তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে আর খেলবেন না বলে স্থির করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সতীর্থদের অনুরোধে মারিয়া কোপা আমেরিকায় খেলেন। চ্যাম্পিয়নও হয় দল। সবকিছুই তাঁর অন্যরকম মনে হয়। 

মেসি ও রোনাল্ডোর মধ্যে তুলনা করতে বসে ডি মারিয়া জানাচ্ছেন,  ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কঠোর পরিশ্রম আর সেরা হওয়ার চেষ্টা করে যান নিরন্তর। 

আর লিও মেসি? মারিয়া জানাচ্ছেন, লকাররুমে মাতে খেয়েও মাঠে নেমে মেসি দেখিয়ে দিত, ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী তিনিই। 
মারিয়া বলেছেন, পেশাদারিত্বের নিরিখে যদি বিচার করা যায়, তাহলে বলব ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো কেউ নেই। কাজের প্রতি নিষ্ঠা, নেশা তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। ঘটনাক্রমে রোনাল্ডো আর মেসি একই সময়কে প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে রোনাল্ডোর ব্যালন ডি অর জেতা, সেরা হওয়াটা কঠিন ছিল।