আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল ম্যাড়মেড়ে ফুটবলের লড়াই। প্রথমার্ধের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে যখন দর্শকদের ধৈর্যের পরীক্ষা চলছিল, তখনই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন এক ঘানাইয়ান জাদুকর।
আন্তোয়ান সেমেনিও-র চোখধাঁধানো ফ্লিকে চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চলতি মরশুমের দ্বিতীয় খেতাব জেতে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। এই জয়ে অষ্টমবারের মতো এফএ কাপ ঘরে তুলল পেপ গার্ডিওলার দল।
শনিবার ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় চেলসি। নিজেদের অর্ধে অধিকাংশ খেলোয়াড়কে রেখে ম্যান সিটির আক্রমণ ঠেকানোই ছিল ব্লুজদের মূল পরিকল্পনা। অন্যদিকে সিটির খেলাতেও ছিল না চেনা গতি কিংবা সৃজনশীলতার ঝলক। ফলে প্রথমার্ধে জমে ওঠেনি ম্যাচ।
তবে এর মধ্যেই গোলের দেখা পেয়েছিলেন আর্লিং হলান্ড। কিন্তু আক্রমণ গড়ার সময় মাথেউস নুনেস অফসাইড থাকায় রেফারি গোল বাতিল করেন। বিরতির ঠিক আগে মার্ক গুয়েহির বাড়ানো বল থেকে সুযোগ পেয়েও চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে পরাস্ত করতে পারেননি হলান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৪ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন আন্তোয়ান সেমেনিও। নিকো ও’রাইলির নিখুঁত ক্রস থেকে ব্যাক পোস্টে ফাঁকায় বল পেয়েও হেড করেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। পাল্টা আক্রমণে চেলসিও সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করেছিল। মোজেস কাইসেদোর হেড প্রায় গোললাইন অতিক্রম করতে যাচ্ছিল, কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন রদ্রি।
এরপরই আসে ম্যাচের নির্ধারণী মুহূর্ত। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আর্লিং হলান্ড ও বার্নাডো সিলভার দারুণ সমন্বয় থেকে বল পান সেমেনিও। মুহূর্তের মধ্যে করা তাঁর অবিশ্বাস্য ফ্লিক ছুঁয়ে যায় চেলসির জাল। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ওয়েম্বলির নীল গ্যালারি।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে চেলসি। সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। লং থ্রো থেকে পাওয়া বলে বক্সের ভিতর নেওয়া তাঁর ভলি অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল ম্যান সিটি। কিন্তু মাথেউস নুনেস ও রায়ান চেরকির দুটি প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে রুখে দেন সানচেজ।
এই জয়ে গার্ডিওলার কোচিংয়ে ২০তম শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসল ম্যানচেস্টার সিটি।
















