আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবার লজ্জা। এবার ১১ গোল হজম। অস্ট্রেলিয়ায় পারথে এএফসি এশিয়ান কাপে জাপানের কাছে ০-১১ গোলে হার ভারতের মেয়েদের। ব়্যাঙ্কিং থেকে খাতায় কলমে, সবদিকেই ঢেরগুণ পিছিয়ে ভারতের মহিলা ব্রিগেড। এটা জানার জন্য ফুটবল পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল জাপানের মেয়েরা। আর এবার ভারত লড়ছিল বিশ্বকাপের ছাড়পত্র আদায় করতে। অসম লড়াইয়ে যে ভারতকে টেক্কা দেবে জাপান, সেটা কিছুটা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু তাই বলে গুণে গুণে ১১ গোল! যার ফলে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র অর্জন করার স্বপ্ন কার্যত শেষ সঙ্গীতা বাসফোরদের। 

১৯৯১ সালে প্রথমবার মহিলাদের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়। সেবার এশিয়া কাপ জিতে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছিল জাপান। মূলপর্বে যাওয়ার বাছাইপর্বে খেলেছিল ভারতও। ১৯৮৬ এশিয়া কাপের প্রথম সাক্ষাতে অনিতা সরকারের গোলে জাপানকে ১-০ তে হারিয়েছিল ভারত। সেইসব এখন অতীত। কিন্তু গত দু'তিন দশকে মেয়েদের ফুটবলে অনেকটাই অধঃপতন হয়েছে। তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ ১১ গোলে হার। 

রক্ষণ সামলে প্রতি আক্রমণে খেলার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই জাপানি সুনামি। তাতে ছারখার ভারতীয় রক্ষণ। একের পর এক গোল হজম। বিরতিতে ০-৫ গোলে পিছিয়ে ছিল ভারত। ম্যাচের ৪ মিনিটে লকগেট খুলে যায়। চলে ৮১ মিনিট পর্যন্ত। জাপানকে এগিয়ে দেন ইউজুকি। ১৩ মিনিটে ২-০ করেন হাসেগাওয়া।‌ এরপর ২০ এবং ৩৫ মিনিটে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়ান মিয়াযাওয়া। পঞ্চম গোল সেইকের। দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে জাপান। বিরতির পর আধ ডজন গোল। হ্যাটট্রিক করেন উইকি। ম্যাচের ৪৭, ৫০ এবং ৬৫ মিনিটে তিন গোল করেন। হ্যাটট্রিক করেন মিয়াযাওয়াও।‌ ৬২ এবং ৮১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গোল করেন। জোড়া হ্যাটট্রিকে টালমাটাল হয়ে পড়ে ভারতের মেয়েরা। এই লজ্জার হারে‌ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ধুলোয় মিলিয়ে গেল। মঙ্গলবার চাইনিজ তাইপের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ। যা শুধুই নিয়মরক্ষার।