বৈশাখের মৌণী তাপসকে হৃদয়ে ধারণ করে, নতুন বছরের, নতুন আবর্তে, সাময়িক বিরতির পর আমাদের, অর্থাৎ, আজকাল ডট ইন-এর 'রবিবার'-এর আবার যাত্রা শুরু হল। জীর্ণতা থেকে উত্তরণের স্বপ্ন রবীন্দ্রনাথ এই বৈশাখের ভিতর দিয়ে দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নকে সম্বল করেই আমাদের নতুন করে যাত্রা শুরু।

তপ্ত বৈশাখের এই দাবদাহের মধ্যেই শুরু হয় সৃষ্টির উন্মাদনা। মানুষ এগিয়ে চলে পুরাতন জীর্ণতাকে অতিক্রম করে নতুনের পানে। সেই নূতনেরই দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন, এই ২৫ বৈশাখের ভিতরেই জেগে থাকে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির অন্তহীন জাগর।

সেখানেই বাঙালি উদ্দীপ্ত হতে চায় তার চিরকালীন সমন্বয়ী চেতনায়। এই সমন্বয়ের মধ্যে চির সঞ্জীবনী সুধার মতো বাংলা তথা ভারতের, মানবতার একত্রিত সুর বারবার বেজে ওঠে। রবীন্দ্রনাথের ভাষাতে নিজেকে বলতে হয়, কোন পুরাতন প্রাণের টানে। আসলে পুরাতন প্রাণের টানে চিরকালীন পিপাসা, তাকেই উদ্দীপিত করতে চাই আমরা প্রাণের মহোৎসবে। সেই মহোৎসবের আমন্ত্রণে নেই কোনও  ধর্ম-ভাষা-লিঙ্গ-  ধনী-দরিদ্রের বিভাজন। আছে কেবল অন্তহীন বাঙালি জাতিসত্তার চিরকালের জেগে থাকার এক চির নূতনের দিল ডাক, পঁচিশে বৈশাখ 
 
একশো বছরের বেশি সময় ধরে এই ডাক আমাদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে সামনের দিকে। রবীন্দ্রনাথের ভাষাতে বলতে হয়, আমরা চলি  সমুখপানে, কে আমাদের বাঁধবে, রইল যারা পিছুর টানে কাঁদবে তারা কাঁদবে। পিছুটানকে জয় করা - এটাই হল জীবনকে অতিক্রম করা। সেটাই হল জীবনের জয়গানকে গলা খুলে উচ্চারণ করার একটা প্রচেষ্টা।
 
এই প্রচেষ্টার মধ্যে দাঁড়িয়েই সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে আমাদের যাত্রা শুরু আবার সেই রবীন্দ্রনাথেই। তাঁর ভাষাতেই বলতে হয়, আমাদের যাত্রা হল শুরু এখন, ওগো কর্ণধার। তোমারে করি নমস্কার।

আমরা আমাদের উজান পানে যাই। এই তরী আমরা বয়ে নিয়ে যাব কাল থেকে কালের উত্তরে। যুগ থেকে যুগান্তরে। মানুষের ভালবাসাকে আমরা উদ্দীপ্ত করব, আমাদের ভালবাসার অটুট বন্ধনে। তাই বারবার সৃষ্টির এই সমুখপানের যাত্রাকে আমরা আমাদের সমস্ত রকমের ভালবাসার মধ্যে দিয়ে, শুভকামনার মধ্যে দিয়ে, আন্তরিকতার মধ্যে দিয়ে ডিঙ্গা ভাসাইয়া চলিব...