আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ মহম্মদ ইউনূসের। মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান।

সামাজিক মাধ্যমে জোর গুঞ্জন, তিনি হয়তো সাংবিধানিক কোনও পদে থেকে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন। মঙ্গলবার দেশের দায়িত্ব নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের সমর্থনে রাজনৈতিক পদেই থেকে যেতে পারেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে খবর, ইউনূস সহ কারওর জন্যই নির্দিষ্ট কোনও পদ এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ গঠনে যোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে আগ্রহী তারেক রহমান।

ইউনূসের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে তারেক রহমান সাহেবের অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ার আগ্রহকে ঘিরে। তিনি নির্বাচিত হলে দেশের সব প্রতিভাকে কাজে লাগাতে চান।’

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউনূসের অভিজ্ঞতা দেশের স্বার্থে বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা থাকলেও ইউনূসের জন্য কোনও নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়নি।

কবির বলেন, ‘রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে যেটা ভাল হবে, তারেক রহমান সেটাই করবেন। প্রয়োজনে যোগ্য ব্যক্তিদের তিনি দলে নেবেন।

তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কারওর জন্যই কোনও নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে। তাঁর আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারেক রহমান ও ইউনূসের আলোচনায় রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তারেক রহমানের দল এবং ইউনূসের দপ্তর, উভয়ই এই দাবি অস্বীকার করেছে।

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশ পরিচালনা করে আসছেন ইউনূস। ফলে তাঁকে নতুন সরকারে উপযুক্ত সাংবিধানিক বা সরকারি ভূমিকায় রাখা সহজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ক্ষেত্রে তিনি তারেক রহমানের জন্য বড় সম্পদ হতে পারেন বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব জল্পনা পুরোপুরি নাকচ করেছেন।

তিনি বলেন, ইউনূস রাজনীতিতে থাকার ক্ষেত্রে কোনও আগ্রহ দেখাননি। তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহ শূন্য। কোনো সাংবিধানিক পদেও নয়। দেশের সংকটকালে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি দেশকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে গেছেন। এখন ক্ষমতা নতুন সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

তবে ইউনূস নিজে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলেননি। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।