আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের পরেই ছুটে গিয়েছিলেন 'স্বপ্নের দেশে'। মধুচন্দ্রিমায় গিয়েই ঘটল বিপত্তি। মধুচন্দ্রিমার মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা। আর তার জেরেই বিচ্ছেদ নবদম্পতির। স্বামী এবং স্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন দেশে আটকে আছেন। একে অপরের থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে তাঁদের।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই নবদম্পতি চীনের ঝেইঝাং প্রদেশের বাসিন্দা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিল তারা। দোহা ছিল সর্বশেষ ডেস্টিনেশন। দোহা থেকে সিডনিগামী বিমানের বিজনেস ক্লাসের টিকিট কেটেছিল ওই দম্পতি। কারণ নব বিবাহিত ওই যুবক মেলবোর্নে থাকেন কর্মসূত্রে।
কিন্তু ওই বিমানের নিয়ম অনুযায়ী, একই বিমানে নবদম্পতির দুটো টিকিট পাওয়া যায়নি। অবশেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ন'টায় ওই বিমানের টিকিট পেয়েছিলেন স্ত্রী। সেদিন বিকেলেই ওই বিমানের আরেকটি টিকিট পেয়েছিলেন স্বামী।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একযোগে ইরানে হামলা চালায়। শনিবার রাতে ইরান পাল্টা হামলা চালায় দুবাই, কাতারে। এই যুদ্ধের আবহে প্রথমে ইরান ও ইজরায়েল আকাশপথ বন্ধ করে দেয়। এরপর দুবাই, দোহা, আবু ধাবিতেও সমস্ত বিমানের উড়ান ও অবতরণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। সূত্রের খবর, এই যুদ্ধের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় ১১ হাজার বিমান বাতিল হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হলেও সেদিন সকালেই দোহা ছেড়ে বিমানে স্ত্রী পৌঁছে যান সিডনিতে। কিন্তু তাঁর স্বামী আটকে পড়েন দোহায়। কারণ শনিবার বেলা থেকেই একের পর এক বিমান বাতিল হতে থাকে। নব বিবাহিত ওই যুবক জানিয়েছেন, অন্য বিমানে টিকিট ভাড়া করা এবং ওই বিমানের অন্য টাইমে টিকিট বুকিং করা, দুটিই ব্যয়বহুল। কয়েক লক্ষ টাকার ধাক্কা। শেষমেশ ১৩ মার্চ দোহা থেকে সিডনিতে ফেরার বিমানের টিকিট বুকিং করেছেন তিনি।
এই সময়পর্বে দোহায় একটি নামী রিসোর্টে ঘর ভাড়া করে থাকছেন ওই যুবক। সকালে নিয়মমাফিক ব্রেকফাস্ট পৌঁছে যায় তাঁর ঘরে। খাওয়াদাওয়ার কোনও সমস্যাই হচ্ছে না। হোটেলের ঘরেই বসে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়তেও দেখেছেন। দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি। স্বামীর চিন্তায় ঘুম উড়েছে স্ত্রী। কবে বাড়ি ফিরবেন, সেই চিন্তায় প্রহর গুনছেন রীতিমতো।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে চীনের তরফে ইরানে ভ্রমণে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে ৩০০০ চীনের নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত হোটেল ও বিমান বুকিং থাকলে, তার টাকা ফেরানোর ব্যবস্থাও শুরু হয়েছে।
