করোনায় লকডাউনের সময় অনেকেই একাকীত্ব কাটাতে নতুন শখ বা অভ্যাস তৈরি করেছিলেন। তবে কানাডার এক মহিলার অভিজ্ঞতা এখন গোটা ইন্টারনেটে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৪৫ বছরের সোনজা সেমিওনোভা দাবি করেছেন, তিনি একটি ওক গাছের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন।

 

সোনজা পেশায় একজন সেল্ফ-ইনটিমেসি কোচ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, লকডাউনের সময় নিয়মিত হাঁটতে বের হতেন। সেই সময় একটি পুরনো ওক গাছের প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ ভাল লাগা মনে হলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, গাছটির সঙ্গে তাঁর এক ধরনের মানসিক ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

 

সোনজার কথায়, একদিন গাছটির নিচে বসে থাকার সময় তিনি খুব শান্তি অনুভব করেন। পরে গাছের গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকলে তাঁর মনে হয় যেন গাছটি তাঁকে নিরাপত্তা ও ভালবাসা দিচ্ছে। ধীরে ধীরে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়।

 

তিনি নিজেকে 'ইকোসেক্সুয়াল' হিসেবে পরিচয় দেন। এই শব্দের অর্থ এমন মানুষ যারা প্রকৃতির সঙ্গে গভীর আবেগের সম্পর্ক অনুভব করেন। তাঁদের মতে, প্রকৃতি শুধুমাত্র ব্যবহার করার জিনিস নয়, বরং তা মানুষের ভালবাসা ও যত্ন পাওয়ারও যোগ্য।

 

তবে সোনজা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সম্পর্কের মধ্যে কোনও শারীরিক যৌনতা নেই। তিনি বলেন, “এটি মূলত মানসিক ও আত্মিক সম্পর্ক। আমি গাছটির কাছ থেকে এমন এক স্থিরতা পাই, যা অনেক সময় মানুষের সম্পর্কেও পাওয়া যায় না।”

 

সোনজার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। কেউ বিষয়টিকে অদ্ভুত বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ বলেছেন এটি প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগের একটি উদাহরণ। অনেকেই মজার ছলে নানা মন্তব্য করলেও, কিছু মানুষ তাঁর ভাবনাকে সমর্থনও করেছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন একাকীত্বে থাকলে অনেক মানুষ প্রকৃতি বা অন্য কিছুর সঙ্গে গভীর আবেগের সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন। আবার পরিবেশকর্মীদের মতে, প্রকৃতির প্রতি এমন ভালবাসা মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন করতে সাহায্য করতে পারে।

 

বর্তমানে সোনজার এই 'গাছের প্রেম' নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তাঁর গল্প শুনে কেউ অবাক হচ্ছেন, কেউ হাসছেন, আবার কেউ এটিকে মানুষের অনুভূতির এক ভিন্ন দিক হিসেবে দেখছেন।