৪৪ বছর কেটে গেছে। জন্মেছিলেন এমন এক প্রযুক্তিতে— যা আজ বিশ্বের প্রায় ১.২ কোটি শিশুর জন্ম-উপায়। তবু আজও কেউ কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন— “আপনার কি নাভি আছে?” আমেরিকার প্রথম আইভিএফ শিশু এলিজাবেথ জর্ডান কার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন অদ্ভুত সব প্রশ্ন করা হত তাঁকে৷
১৯৮১ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ভোর ৭টা ৪৬ মিনিটে ভার্জিনিয়ার নরফোক জেনারেল হাসপাতালে জন্ম এলিজাবেথের। ভারতের কথা বললে— ১৯৭৮ সালে কলকাতার ডঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের হাতে জন্ম নিয়েছিল ভারতের প্রথম আইভিএফ শিশু দুর্গা (কনুপ্রিয়া আগরওয়াল)। কিন্তু আমেরিকায় তখনও এই প্রযুক্তি অজানা।
এলিজাবেথ জন্মেছিল ম্যাসাচুসেটসে। সেখানে তখন আইভিএফ ছিল আইনত নিষিদ্ধ। তাই বাবা-মাকে যেতে হয়েছিল ভার্জিনিয়ায়।
মা জুডিথের তিনটি একটোপিক প্রেগন্যান্সির পর ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। সার্জারির পর চিকিৎসক বললেন— “নরফোকে এক নতুন প্রকল্পের কথা শুনেছি, আইভিএফ। চেষ্টা করুন।”
এলিজাবেথ মজা করে বলেন, “আমার প্রথম প্রেস কনফারেন্স হয়েছিল মাত্র তিন দিন বয়সে।” বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন— জন্ম গোপন রাখবেন না। তাঁদের বার্তা ছিল স্পষ্ট— আমরা সাধারণ এক দম্পতি, একটা সন্তান চাই। আর আমাদের মেয়ে হাঁটে, কথা বলে, কাঁদে— ঠিক আর পাঁচটা শিশুর মতোই।”
দশকের পর দশক ধরে এলিজাবেথকে যে প্রশ্নটি বারবার শুনতে হয়েছে— “আপনার কি নাভি আছে?” এর পেছনের ভুল ধারণা— “তাহলে কি আপনি কোনো টিউবে বা ল্যাবে বড় হয়েছিলেন?”
এলিজাবেথের ব্যাখ্যা— “টেস্ট-টিউব নয়, পেট্রি ডিশে— শুধু নিষেক ঘটেছিল। এরপর ভ্রূণ মায়ের গর্ভে স্থাপন করা হয়। তারপর আর পাঁচটা গর্ভাবস্থার মতোই নয় মাস। তাই হ্যাঁ, আমার নাভি আছে— এবং সবার মতোই।”
আইভিএফ আজ আর শুধু বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নয়
এলিজাবেথ স্মরণ করিয়ে দেন— “আইভিএফ আজ অনেক বিস্তৃত। ক্যানসারের চিকিৎসার আগে যাঁরা প্রজনন-ক্ষমতা সংরক্ষণ করতে চান, সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন হওয়ার আগে যাঁরা পরিবার গড়তে চান, এলজিবিটিকিউ দম্পতি, কিংবা দেরিতে মা-বাবা হতে চাওয়া মানুষ— সবার জন্য এই প্রযুক্তি।”
ভারতে আজ লক্ষ লক্ষ দম্পতি আইভিএফের শরণাপন্ন। কলকাতা থেকে শুরু করে দিল্লি, মুম্বই— উন্নত ক্লিনিকের জাল ছড়িয়ে। তবু সামাজিক কুসংস্কার, পরিবারের চাপ, খরচের বোঝা আজও বাধা। কোনো শিশুকে কীভাবে জন্মেছ প্রশ্ন করার অধিকার কারও নেই।
৪৪ বছরের এলিজাবেথ আজ গর্বিত— “আমি যেন এক বড়-দিদি, পৃথিবীজুড়ে ১.২ কোটি আইভিএফ-শিশুর। এটাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ।”
২০২৪-এর মার্চে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি ছিলেন সম্মানিত অতিথি— প্রজনন-অধিকার রক্ষার পক্ষে।















