শীতের সময় গরম জলে স্নান অনেকের কাছেই ভীষণ আরামদায়ক। উষ্ণ জলের বাষ্প যেন শরীরকে এক ধরনের স্বস্তির আবরণে ঢেকে দেয়। তবে এই অভ্যাস যতই সুখকর হোক না কেন, ত্বকের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত গরম জলে স্নান ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অদিতি দালভি দেশপান্ডে জানান, শীতকালে তাঁর চেম্বারে বহু রোগী আসেন যাঁদের অভিযোগ, গরম জলে স্নানের পর ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, চুলকানিযুক্ত ও খসখসে হয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, গরম জল ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মুহূর্তের জন্য আরাম দিলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভালো নয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, গরম জল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধীরে ধীরে ধুয়ে সরিয়ে দেয়। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। ফলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

যাঁদের আগে থেকেই ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ডা. দেশপান্ডে বলেন, প্রতিদিন গরম জলে দীর্ঘক্ষণ স্নান করলে ত্বকের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে একজিমা বা সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ে।

প্রতিদিন স্নান কি জরুরি?

অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন স্নান না করলে স্বাস্থ্যবিধি বজায় থাকে না। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিদিন স্নান করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষ করে যদি গরম জলের কারণে ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা বাড়ে, তাহলে একদিন অন্তর স্নান করাই ভাল।

যেদিন স্নান এড়িয়ে যাবেন, সেদিন কীভাবে সতেজ থাকবেন?

এক-দু’দিন স্নান না করলেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হয় না। তবে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। স্নান না করা আর অস্বাস্থ্যকর থাকা এক বিষয় নয়।

শরীরের জন্য: একটি ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড়ে সামান্য মৃদু সাবান লাগিয়ে বাহুমূল, কুঁচকি ও পা পরিষ্কার করুন। তারপর আলতো করে মুছে শুকিয়ে নিন, ঘষাঘষি করবেন না।

চুলের জন্য: ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া অল্প চালের জল বা ট্যাল্কমুক্ত পাউডার ব্যবহার করে অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই সতেজ অনুভব করবেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গরম জলে দীর্ঘক্ষণ স্নানের বদলে উষ্ণ গরম জল ব্যবহার করুন এবং স্নানের পর ভাল মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্কতার সমস্যা কমবে।