আজকাল ওয়েব ডেস্ক: সুস্থ থাকতে দুধ খাওয়ার জুড়ি মেলা ভার। দুধে থাকা পুষ্টিগুণ শরীরের যত্ন নেয়। বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের খনি দুধ নিয়মিত খেলে হাড়, জয়েন্টের ব্যথা  কমে। একইসঙ্গে নয়টি অ্যামিনো অ্যাসিড সহ প্রোটিনে ভরপুর দুধ রোজ খেলে অনেক রোগভোগ থেকে দূরে থাকা যায়। বিশেষ করে বাড়ন্ত বয়সে দুধ খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই।  তবে বর্তমানে তাজা দুধ সবসময় পাওয়া যায় না। তাই দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য প্যাকেজজাত দুধের উপর ভরসা করে বেশিরভাগ পরিবার। টেট্রা প্যাক হোক কিংবা প্যাকেট, অনেকেই সেই দুধ ফুটিয়ে খান। এদিকে বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এমনটা পরামর্শ দিচ্ছেন না। 

আসলে প্যাকেজজাত দুধ দীর্ঘ পাস্তুরাইজেশনের মধ্যে দিয়ে যায়। দুধ ভাল রাখার জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারতে একটি গরম ট্রিটমেন্ট করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন অসুস্থতা ও রোগ সৃষ্টিকারী ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, মাইকোব্যাকটেরিয়াম, ই.কোলি, লিসটেরিয়া, ক্যাম্পিলোব্যাকটর ধ্বংস করতে প্যাকেজজাত দুধ সাধারণ ৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করা হয়। পাস্তুরাইজেশন শুধু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াই মারে না, একইসঙ্গে দুধ অনেকক্ষণ ভাল রাখতেও সাহায্য করে। 

পাস্তুরাইজড দুধ ফের গরম করলে দুধের পুষ্টির মানের উপর প্রভাব পড়ে। ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১০ মিনিট ধরে দুধ ফোটালে ভিটামিন ডি-এর মতো পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালমিয়াম শোষণে সাহায্য করে। সঙ্গে অন্তত ২৫ শতাংশ ভিটামিনের উপাদান কমে যায়। পাস্তুরাইডজড দুধ ফোটালে তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রোটিনের মাত্রা কমতে দেখা যায়। দুধের প্রোটিন পেশী, হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে এবং ওজন কমানোরও প্রক্রিয়াও দ্রুত করে। পাস্তুরাইজড দুধ ফোটালে দুধের স্বাদ ও ধরনও বদলে যায়। 

যদিও বিশেষজ্ঞরা পাস্তুরাইজড দুধ ফোটানোর পরামর্শ দেন না। তবে এতে কিছু উপকারিতাও রয়েছে। যেমন অনেকেই মনে করেন, দুধ ফুটিয়ে খেলে ল্যাকটোজ ভেঙে যায়। ফলে হজমে সুবিধা হয়। তাছাড়া বহু যুগ ধরে দুধ ফুটিয়ে খাওয়ার চল রয়েছে। তাই খানিকটা মানসিক স্বস্তিও জন্যও অনেকে দুধ ফোটাতে পছন্দ করেন। তাই পাস্তুরাইজড দুধ যেমন একেবারে ঠান্ডা খাওয়া উচিত নয়। তেমনই ৩-৫ মিনিট ধরে ফোটানোরও প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে প্যাকেজজাত দুধের সঙ্গে কাঁচা দুধ মিলিয়ে দিলে চলবে না। কারণ কাঁচা দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেকিয়া থাকে। তাই ওই দুধ অবশ্যই ফুটিয়ে খাওয়া উচিত।