শ্যামশ্রী সাহা: ছোটবেলায় মা ঠাকুমার মুখে শুনে এসেছি ‘কেশই বেশ’। লম্বা-কালো একঢাল চুলের স্বপ্ন কে না দেখেন । শুধু মহিলা কেন পুরুষরাও একমাথা চুলের জন্য, সেই চুলের যত্নের জন্য কত কী করেন। চুলের পরিচর্যায় আগে ছিল ঘরোয়া টোটকা-- নারকেল তেল, মেথি, কেশুতপাতা, কারিপাতা, জবাফুল । এখন যে এই ঘরোয়া জিনিসের কদর নেই তা নয়। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চুলচেরা বিশ্লেষণে জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক পদ্ধতি।
পাড়ার মোড়ের চেনা ছোট্ট সেলুনের জায়গায় এখন ঝাঁ চকচকে স্যালোঁ। ঢেউখেলানো চুল হয়ে যাচ্ছে সোজা, নির্জীব প্রাণহীন চুল বিশেষ পরিচর্যায় হচ্ছে রেশম-কোমল। একঢাল লম্বা চুলের চলও এখন নেই, তার বদলে নিত্যনতুন হেয়ার কাটে নিমেষে নিজেকে বদলে ফেলা। আর চুলের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের বদলে জায়গা করে নিয়েছে নানা ধরনের হেয়ার ট্রিটমেন্ট।
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বাবার সঙ্গে সেলুনে গিয়ে কাজ শেখা, তারপর সোজা বিদেশ। সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে চারটে চেয়ারের ছোট্ট স্যাঁলো খুলে ফেলেন বিমল ঠাকুর। শুরু হয় ম্যাজিক। ওঁর হাতের জাদুতে কেউ রূপকথার পরি তো কেউ স্বপ্নের রাজকন্যা। খুব সাধারণ চেহারাও একটা হেয়ার কাট-এই অসাধারণ। সমাজমাধ্যমে এমন ভিডিও সাড়া ফেলে দিয়েছে মফসসল থেকে শহরে।
শুধুমাত্র চুলের চেহারা বদলে কীভাবে অল্পসময়ে পাওয়া যায় কমপ্লিট মেকওভার? হেয়ার স্পেশালিস্ট বিমল ঠাকুরের কথায় “চুল কাটতে বা চুলের ট্রিটমেন্ট করতে যাঁরা যান, তাঁদের ঠিকমতো গাইড করা হয় না। চুলের সমস্যা কী, কোন ধরনের হেয়ার কাট বা হেয়ার কালার তাঁকে মানাবে এই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা সবসময় ঠিক হয় না। তাই ক্লায়েন্ট সমস্যায় পড়েন। চুলপড়া, ডগাফাটা, খুশকি এইসব সমস্যার সমাধানে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ক্লায়েন্ট অনেক কিছু চাইতে পারেন, কিন্তু দেখতে হবে তাঁর স্ক্যাল্প আর চুলের জন্য কী প্রয়োজন। চিকিৎসার আগে রোগটা কী সেটা বুঝতে হবে।‘’
সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন
আমাদের ত্বক যেমন মিশ্র হয়, তেমন স্ক্যাল্পও মিশ্র ধরনের হতে পারে। ধরুন আপনার চুল অয়েলি কিন্তু স্ক্যাল্প ড্রাই। প্রথমেই স্ক্যাল্প ও চুলের ধরন ঠিক কেমন সেটা দেখে নেওয়া জরুরি। নাহলে ভাল হেয়ার ট্রিটমেন্ট করেও লাভ হয় না। চুলের জন্য যে শ্যাম্পু ব্যবহার করছি, সেটা স্ক্যাল্পের জন্য ঠিক নাও হতে পারে। সেখানে দু’ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা রোজ কাজে বেরোন তাঁদের জন্য সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন খুব জরুরি।
চুলের ধরন অনুযায়ী কী ট্রিটমেন্ট
ন্যানো অর্গানিক-স্ট্রেট, ওয়েভি, কার্ল চুলের ট্রিটমেন্টও আলাদা। প্রথমেই দেখতে হবে টেক্সচার। এই পদ্ধতিতে অর্গানিক শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়া হয়। এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে পঞ্চাশটা হেয়ার ওয়াশ। কিউটিকল ওপেন করে প্রোডাক্ট লাগানো হয়। এখানে জল কতটা গরম দেওয়া যাবে সেটাও হেয়ার টেক্সচার পরীক্ষা করে ঠিক করা হয়। এই ট্রিটমেন্ট-এ কোনও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। তাই চুলের কোনও ক্ষতি হয় না।
বোটলিস- এটা কিন্তু বোটক্স নয়। সম্পূর্ণ আলাদা। এই পদ্ধতিতে চুল স্ট্রেট হবে সঙ্গে চুলের ইলাস্টিসিটি বাড়বে ও ব্রেকেজ কন্ট্রোল হবে। এখানে কোলাজেন ব্যবহার করা হয়। যা চুলের ময়েশ্চার বাড়ায়। চুলকে নরম করে। চুলের প্রথম স্তরে প্রোটিন থাকে। ৩০-৩৫ বছরর বয়সের পর চুলে এই প্রোটিনের মাত্রা কমতে থাকে। চুল রুক্ষ হয়ে যায়। এই পদ্ধতি চুলে প্রোটিনের অভাব মেটায়।
বেসপপ ট্রিটমেন্ট
চুল ও স্ক্যাল্প দেখে এই ট্রিটমেন্ট করা হয়। স্পা করার পর একটা দুটো ওয়াশের পর ওই স্পা-এর কোনও এফেক্ট থাকে না। এই পদ্ধতি অনেকদিন চুলকে ভাল রাখতে সাহায্য করে।
ট্রেন্ডিং হেয়ার কাট
কাট অ্যান্ড ব্যাঙ্গস-লম্বা মুখে
ফ্রিঞ্জ- ফোরহেড চওড়া হলে
ন্যাচারাল ইনভেনশন-যাঁদের জ-লাইন ফোলা
হেভি লেয়ারস-সামনের চুল পাতলা হলে
লং লেয়ারস -চৌকো ধরনের মুখে
ট্রেন্ডিং হেয়ার কালার
আইকনিক ব্রাউন
ক্যারামেল কোকো ব্রাউন
ক্যারামেল ব্লন্ড
ব্রোঞ্জ ব্রাউন
কোকো ব্রাউন, অ্যাশ ব্লন্ড
পারফেক্ট হেয়ার কেয়ার
রোজ বাড়িতে আয়রন বা ব্লো ড্রাই করার আগে হিট প্রোটেক্টেড সিরাম লাগান। নাহলে ব্রেকেজ বাড়বে। কালার করার পর চুলে ময়েশ্চার মাস্ক লাগাতে হবে। এখন জলে প্রচুর আয়রন থাকে, এর ফলে চুলের প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করতেই হবে। সপ্তাহে একদিন চুলে নারকেল তেল লাগান।
















