প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। পেশি গঠন, কোষ মেরামত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, সব ক্ষেত্রেই প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে, প্রোটিন কখন খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়? সকালে, ব্যায়ামের পর নাকি রাতে? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে কী বলছে সাম্প্রতি গবেষণা। 

নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রোটিন খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দিনে মোট কতটা প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ঠিক সময়ে প্রোটিন না খেলেই শরীরের ক্ষতি হয়ে যাবে, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেস দুনিয়ায় 'অ্যানাবলিক উইন্ডো' নামে একটি ধারণা প্রচলিত। এর মানে হল, ব্যায়ামের ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন না খেলে পেশি ঠিকভাবে তৈরি হবে না। তবে গবেষকরা বলছেন, এই ধারণার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব জোরালো নয়। যারা প্রতিদিন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন খান, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে প্রোটিন খাওয়াটা বাধ্যতামূলক নয়। 

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও জানিয়েছেন, ব্যায়ামের পরে ১–২ ঘণ্টার মধ্যে প্রোটিন খেলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায় এবং পেশির মেরামত কিছুটা ভাল হয়। কিন্তু সময় একটু এদিক-ওদিক হলেই বড় ক্ষতি হবে, এমন নয়। একইসঙ্গে দিনে একবার অনেকটা প্রোটিন খাওয়ার বদলে সারা দিনে ভাগ করে প্রোটিন খাওয়া বেশি উপকারী। এতে শরীর প্রোটিন ভালভাবে শোষণ করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। সকালের ব্রেকফাস্টে ডিম বা দুধ, দুপুরে ডাল–মাছ, আর রাতে হালকা প্রোটিন—এই অভ্যাস শরীরের জন্য ভাল।

রাতে প্রোটিন খাওয়া নিয়েও অনেকের মনে ভয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে হালকা ও ধীরে হজম হয় এমন প্রোটিন যেমন দুধ বা দই খেলে ক্ষতি নেই। বরং ঘুমের সময় পেশি মেরামতে এটি সাহায্য করে। প্রোটিন খাওয়ার সময় নয়, মোট দৈনিক পরিমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের পর প্রোটিন খাওয়া ভাল, কিন্তু তাড়াহুড়ো জরুরি নয়। দিনে কয়েকবার ভাগ করে প্রোটিন খেলে বেশি উপকার হয়। রাতে পরিমিত প্রোটিন খাওয়া ক্ষতিকর নয়। সবমিলিয়ে একথা বলা যায়, প্রোটিন নিয়ে অযথা সময়ের চাপ না নিয়ে, নিয়মিত ও সঠিক পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।