আজকাল ওয়েবডেস্ক: কয়েক বছর আগেও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মতো সমাজমাধ্যমে অনেকেই খুব একটা সাবলীল ছিলেন না। কিন্তু ইদানীং সমাজমাধ্যম মারাত্মক নেশা হয়ে উঠেছে। সুযোগ পেলেই রিলস-ভিডিওর নেশায় বুঁদ হচ্ছেন বাড়ির খুদে থেকে প্রৌঢ় সদস্য। আসলে অফিস হোক বাড়ি, পড়াশোনা কিংবা অন্য কোনও কাজ, বর্তমানে মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্তও চলা মুশকিল৷ আর এই প্রয়োজনের হাত ধরে কখন যে নেশার রাস্তাও প্রশস্ত হয়ে যাচ্ছে! যার প্রভাব পড়ছে শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্যেও। চিড় ধরছে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। তাই এই পরিস্থিতিতে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন থেকে ডিজিটাল দুনিয়ার প্রভাব সরানোর জন্য শরীর ও মনের চাই ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। এতেই রয়েছে সুস্থ জীবনযাপনের চাবিকাঠি। গবেষণা বলছে, ফেসবুক বা সামাজিকমাধ্যম আমাদের নানাভাবে ক্ষতি করে। লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের প্রতিযোগিতা যেমন নেশায় পরিণত হয়, তেমনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করার অভ্যাস মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। সেক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ উপায়ে ডিজিটাল ডিটক্স-এর মাধ্যমে আসক্তি কাটাতে পারেন-
১. একদিনে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, শপিং অ্যাপ, ফুড অ্যাপ, গেমিং- সব থেকেই নিজেকে সরিয়ে নেওয়া সহজ নয়। তাই ধীরে ধীরে করতে হবে। যার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া। তাহলেই 'ডিজিটাল ডিটক্স' অনেকটা সোজা হয়ে যাবে।
২. কতক্ষণ টিভি, কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ব্যবহার করবেন, সেবিষয়ে নিজেকে সময় বেঁধে নিন। খেতে বসার কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার সময় ফোন নিজের থেকে দূরে রাখুন। পারলে ঘুমাতে যাওয়ার ২ ঘণ্টা আগে এবং পরে ফোন ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এই অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে ধীরে ধীরে সারাদিনে ফোনের ব্যবহারও কমাতে পারবেন।
৩. স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সেই সময়ে বই পড়ার অভ্যাস করুন। আর ফোনে একই সময়ে একটাই জিনিস দেখার বা একটাই কাজ করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ছুটির দিন খুব প্রয়োজন ছাড়া ফোনকে সঙ্গী করবেন না।
৪. ডিজিটাল দুনিয়ার প্রতি বেশি আসক্তি দেখালে প্রিয় মানুষও সতর্ক করতে পারেন। বাড়ির সদস্য হোক বা বন্ধু, প্রত্যেককেই এবিষয়ে প্রিয়জনের প্রতি সচেতন হওয়া জরুরি। যার জন্য কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন, সময় কাটান।
৫. অবসরে নিজের শখ কিংবা পছন্দের কোনও বিষয় নিয়ে চর্চা করতে পারেন। পেশাগত কাজের বাইরে গান, নাচ, বাগানের পরিচর্যা সহ যে কোনও কাজে নিজেকে যুক্ত রাখলে ফাঁকা সময়ে আর মোবাইলের প্রতি আসক্ত হবেন না।
