ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানেই প্রেম, ভালবাসা আর বিশেষ উপহার। এই দিনে সঙ্গীকে খুশি করতে অনেকেই নানা রকম গিফট দেন। তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু উপহার আছে যেগুলো ভালবাসা বাড়ানোর বদলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি, মনখারাপ এমনকী ঝামেলার কারণও হয়ে উঠতে পারে। তাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে বুঝেশুনে উপহার দেওয়াই শ্রেয়। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সবচেয়ে বড় ভুল হল ভাবনা ছাড়া উপহার কেনা। খুব সস্তা বা তাড়াহুড়ো করে কেনা জিনিস দিলে সঙ্গীর মনে হতে পারে আপনি তাঁকে বা এই দিনটিকে গুরুত্ব দেননি। উপহারের দাম নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতিই আসল-এই বিষয়টা ভুলে গেলে চলবে না।

আরেকটি বড় ভুল হল ওজন কমানো বা ফিটনেস সংক্রান্ত উপহার দেওয়া। যেমন ডায়েট চার্ট, জিম মেম্বারশিপ, ওজন মাপার মেশিন ইত্যাদি। অনেক সময় এসব উপহার সঙ্গীর মনে আঘাত করতে পারে। এতে মনে হতে পারে আপনি তাঁর চেহারা বা শরীর নিয়ে অসন্তুষ্ট। সঙ্গী নিজে না চাইলে এই ধরনের উপহার দেওয়া সম্পর্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়াও বহু মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘড়ি, রুমাল বা জুতো উপহার দেওয়া শুভ নয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ঘড়ি মানে সময় শেষ হওয়া বা দূরত্ব বাড়া, রুমাল মানে কান্না বা কষ্ট, আর জুতো মানে ঝগড়া বা মতবিরোধ। আপনার সঙ্গী যদি এই ধরনের বিশ্বাসে বিশ্বাসী হন, তাহলে এমন উপহার এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।

অনেকেই ভালোবাসার দিনে নকল বা খুব কম মানের গয়না উপহার দেন। কিন্তু গয়না সাধারণত বিশেষ স্মৃতি ও আবেগের প্রতীক। তাই মান খারাপ হলে সঙ্গীর মনে হতে পারে আপনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেননি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সঙ্গীর পছন্দ না জেনে দেওয়া উপহার সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন এমন পোশাক, পারফিউম বা সাজগোজের জিনিস যা সঙ্গী ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না। এতে ভালবাসার বদলে বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

সবমিলিয়ে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র উপহার মানে শুধু একটি জিনিস নয়, বরং ভালবাসা ও যত্নের প্রকাশ। তাই উপহার দেওয়ার আগে সঙ্গীর পছন্দ, অনুভূতি ও মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রাখা জরুরি। সঠিক উপহার সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তুলতে পারে, আর ভুল উপহার অযথা দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।