সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত জল খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সকলেরই জানা। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, জল খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্রস্রাবের বেগ পায়। ১০–১৫ মিনিট পরপর টয়লেটে যেতে হলে মনে প্রশ্ন জাগে, শরীরে কি কোনও সমস্যা হচ্ছে? চিকিৎসকদের মতে, সব ক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে বেশি জল খেলে কিডনি দ্রুত অতিরিক্ত জল ছেঁকে বের করে দেয়। এতে মূত্রাশয় দ্রুত ভরে যায় এবং প্রস্রাবের তাগিদ আসে। এটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ জল না খেয়ে হঠাৎ বেশি জল পান করলে এমনটা হতে পারে।

তবে অল্প জল খেলেও যদি বারবার প্রস্রাবের চাপ আসে, তাহলে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন-

অতিসক্রিয় মূত্রাশয় (ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার) হলে মূত্রাশয়ের পেশি বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে পুরোপুরি না ভরলেও প্রস্রাবের তাগিদ তৈরি হয়।

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) হলে ঘন ঘন প্রস্রাব, জ্বালা, তলপেটে ব্যথা বা প্রস্রাবের রং ঘোলা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলেও বেশি প্রস্রাব হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করতে বেশি প্রস্রাব তৈরি করে।

এছাড়া কফি, চা বা অ্যালকোহল বেশি খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে, কারণ এগুলো মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থেকেও অনেক সময় ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলোর সঙ্গে যদি ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন- প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, জ্বর, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে টয়লেটে যাওয়া, কোমর বা তলপেটে ব্যথা। সমস্যা কমাতে একসঙ্গে বেশি জল না খেয়ে অল্প অল্প করে পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ক্যাফেইন কমানো, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকেরা বলেন, মাঝে মাঝে বেশি প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক হলেও সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসাই পারে বড় জটিলতা এড়াতে।