আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুরুলিয়ার সুখেন। কাজ করতেন পুণেতে। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সুখেনের দেহ। ঘটনায় শুরু থেকেই সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার পুরুলিয়ার বাড়িতে ফিরেছে সুখেনের দেহ। পুরুলিয়ায় সুখেনের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। সাফ জানালেন, 'মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করি না'। সঙ্গেই দিলেন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস। বললেন, সকলকে সুনিশ্চিত করতে হবে, যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
বলেন, 'কী কারণে মৃত্যু, কেন মৃত্যু, সবই তদন্ত সাপেক্ষ। আমি কোনও মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করি না।' তারপরেই মনে করালেন গত কয়েকমাসে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার মানুষের যেসব হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনাগুলিকে। যদিও অভিষেক সাফ জানান, 'আমি তার সঙ্গে এই ঘটনাকে যুক্ত করতে চাই না। পুলিশ তদন্ত করছে, সব তদন্ত সাপেক্ষ।'
একদিকে যেমন সুখেনের বাড়িতে দাঁড়িয়ে মামলার তদন্তের জন্য মহারাষ্ট্র সরকারকে ডেডলাইন দিলেন অভিষেক সঙ্গেই জানালেন, রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যারা যারা অভিযুক্ত, কেউ ছাড় পাবে না। তার জন্য যতদূর যাওয়ার আমরা যাব।' অভিষেক এও জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ, ট্রায়াল শুরু করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ট্রায়াল শেষ করে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করার দায়িত্ব মহারাষ্ট্র পুলিশের। অভিষেক বলেন, 'তারা যদি না পারে, কেস ট্রান্সফার করে দিক রাজ্যে। আমরা ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখাব।' সুখেনের পরিবারকে আইনি সহযোগিতা করবে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গেই বলেন, 'আমি শুনেছি ১জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। যারা এর সঙ্গে যুক্ত যাতে তারা জেলের পর বেল না পান, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।' সাফ জানালেন, এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য না করলেও, যতদূর যাওয়ার যাবে তাঁর দল।
পুণের পরিস্থিতি তুলে ধরেও বলেন, 'ওখানে তো দিশেহারা অবস্থা। একবার বলছে ময়নাতদন্ত হবে। একবার বলছে মর্গে যেতে হবে। বলছে থানায় যেতে হবে। একবার বলছে কোথায় ছিল দেখাও। ওঁদের তো পাশে দাঁড়ানোর মতো অভিভাবক ছিল না।'
নিজেদের দাবি সামনে রেখে বলেন, 'হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, যেখানে দরবার করতে হবে করব। ট্রায়াল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।' ঘটনায় একহাত নেন পুরুলিয়া-বিজেপিকেও।
অভিষেক এদিন বলেন, কলকাতা ফিরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে বলবেন, যারা ধরা পড়বেন তাঁদের যেন বেল না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সুখেনের ভাইয়েরা অভিষেককে জানিয়েছেন, তাঁরা আর ফিরে যেতে চান না মহারাষ্ট্রে, এদিন তা উল্লেখ করেই তৃণমূল নেতা বলেন, 'আমরা দলগতভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং আমাদের দলনেত্রীর কাছে তাঁদের আবেদন রাখব , দু'ভাইয়ের যেন চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমাদের মানবিক রাজ্য সরকার যত দ্রুত সম্ভব এখানেই করে দেন। যাতে তাঁরা পুরুলিয়ার মাটিতেই থাকতে পারেন।'
