ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা শরীরের যে কোনও অংশে শুরু হতে পারে। আমাদের শরীর অসংখ্য কোষ দিয়ে তৈরি। সাধারণত কোষগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জন্মায়, কাজ করে এবং সময় হলে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কোনও কারণে যদি কোষের ভেতরের জেনেটিক গঠনে (ডিএনএ) পরিবর্তন ঘটে, তখন সেই কোষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। এভাবেই ক্যানসারের সূচনা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার শরীরের যে কোনও অঙ্গে শুরু হতে পারে। তবে কিছু অঙ্গে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। যেমন-
2
9
ফুসফুস: ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান এবং বায়ুদূষণ ফুসফুসের কোষের ক্ষতি করে। তাই ফুসফুস ক্যানসার বিশ্বজুড়ে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার।
3
9
স্তন: মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যানসার। পুরুষদেরও এই ক্যানসার হতে পারে, যদিও সংখ্যা কম।
4
9
কোলন বা বৃহদান্ত্র: অস্বাস্থ্যকর খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম ও অতিরিক্ত ওজন কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
5
9
লিভার: লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাস, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ফ্যাটি লিভার।
6
9
ত্বক: দীর্ঘদিন রোদে থাকা বা অতিরিক্ত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্যানসার হতে পারে।
7
9
অনেক সময় ক্যানসার শুরুতে কোনও লক্ষণ দেখায় না। এটাই সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং যখন লক্ষণ স্পষ্ট হয়, তখন অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। তাই শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
8
9
কিছু সাধারণ লক্ষণ যা উপেক্ষা করা উচিত নয়। যেমন হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকা, শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক গাঁট বা ফোলা, দীর্ঘদিন কাশি বা গলা ব্যথা, মল বা প্রস্রাবে রক্ত, ক্ষত যা সহজে শুকায় না। তবে মনে রাখতে হবে, এই লক্ষণগুলো থাকলেই যে ক্যানসার হয়েছে এমন নয়। অনেক সাধারণ অসুখেও এমন হতে পারে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
9
9
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সচেতনতা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। ক্যানসার যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, চিকিৎসা তত সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই শরীরের সংকেতকে অবহেলা করবেন না।