রিয়া পাত্র

হাসিনার উত্তরসূরি বাছল বাংলাদেশ। তবে এই ভোটে হাসিনার দল অংশগ্রহণ করেতেই পারেনি। একের পর এক অশান্তি ক্লান্ত বাংলাদেশে ভোটও পড়েনি খুব বেশি। এই কম ভোট পড়ার বিষয়টিকে সামনে তুলে ভোট শেষ হতেই হাসিনা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। অন্যদিকে তারেক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, তাঁকে ক্ষমতায় আনার জন্য। বাংলাদেশ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর পেল পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘকাল পরে পদ্মাপারে বদল হল শাসকদলের। তারপরেও প্রশ্ন থাকছে। নতুন সরকার গঠন হলেও, অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন না ভোট প্রাক্কালে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটে চলা সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনাবলী। কোথাও মার। কোথাও পিটিয়ে খুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে উল্লাস। কোথাও খুন হাত পা বেঁধে। 

ভোট হল। সরকার পেল বাংলাদেশ। কিন্তু সংখ্যালঘুরা? তাঁরা কী আশ্বাস পেলেন? সুরক্ষার আশ্বাস? নাকি বিএনপি ছাড়া অন্য 'অপশন'ই খোলা ছিল না তাঁদের কাছে? পরিস্থিতি আসলে কী? উত্তর খুঁজতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল  বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিশদ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথের সঙ্গে। দীর্ঘদিন সংখ্যালঘুদের হয়ে পদ্মাপারে কাজ করছেন মণীন্দ্র। 


ভোট নিয়ে কী মত তাঁর?

তিনি বলছেন, সরকার গঠন হলেও, প্রশ্ন থেকেই যাবে। কারণ এই নির্বাচন ব্যতিক্রমী নির্বাচন। এক সরকার গেল। অন্তবর্তী সরকার তিনমাসের মধ্যেও ভোট করাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় পরে ভোট হলেও, এক সময়ে সংখ্যালঘুরা যে রাজনৈতিক দলকে ভরসা করেছে, সেই দল ভোটে অংশগ্রহণই করতে পারেনি। ফলে বহু সংখ্যালঘু মানুষ যেমন ভোট দিলেন না হয়তো, অনেকেই কিন্তু ঘর থেকে বেরোলেন বিএনপি'কে ভোট দিতে। 

কতটুকু গ্রহনযোগ্য এই ভোট এবং ফলফল তাহলে?


মণীন্দ্র বলছেন, আওয়ামি লিগ ভোটে অংশগ্রহণই করতে পারেনি। ফলে মানুষ ভোটে অংশ নিলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়। 

কিন্তু বিএনপি জমানা কি ভরসা দিতে পারবে সংখ্যালঘুদের? 

মণীন্দ্রর ভরসা তেমনটাই। তিনি মনে করছেন, তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার ভরসা যুগিয়েছে বহু মানুষের মনে, তা অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশের রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি, ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে ভয়, সংকটের মাঝে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলছেন ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এগিয়ে যাবেন। ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনকে ধারণ করে এগোবেন দেশের উন্নয়নের পথে। কাজ করবেন সমগ্র জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে। অর্থাৎ খালেদা-হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন একসঙ্গে বাঁচার। নির্ভয়ে বাঁচার। অভয় পাচ্ছেন তারেকের শান্ত, ধীর, উচ্ছ্বলহীন বক্তব্যে। তারেকের কাছে সংখ্যালঘুদের দাবি, ধর্মের  সহাবস্থানের, ধর্মীয় স্বাধীনতার।

কিন্তু এই বাংলাদেশ আগেও বিএনপি জমানা দেখেছে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লিগকে আনতে। কেন তাহলে আবার বিএনপি'তেই ভরসা?  

দীর্ঘদিন থেকে বিএনপি দেশ শাসন করেছে। কিন্তু মণীন্দ্র বলছেন শেষ পর্যায়ে বিএনপি'র জোট শরিকদলগুলি ছিল কট্টর ধর্মীয় দল। তখন ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সমঝোতা করেছে।যেসব দল স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, বিএনপি তাদের পাশে রেখে ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু এখন আওয়ামী লিগও নেই ভরসার ঢাল হয়ে। অন্যদিকে তারেকের উপর নতুন করে বিশ্বাস রাখছেন বহু মানুষেই। তাঁদের বিশ্বাস, সংখ্যালঘু অত্যাচার, শোষন কমবে তাঁর জমানায়।

তারেক বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি দল চালিয়েছেন বললে ভুল হয় না। ১৭ বছর পোর্ট দেশে ফিরেই, নিজেয় সৌম্য, শান্ত রূপ দেখিয়েছেন। ভরসা কুড়িয়েছেন। সেই ভরসা কতটা বাঁচিয়ে রাখতে পারেন পদ্মাপারে, সেটাই দেখার।