মন খুলে হাসা শুধু আনন্দের জন্য নয়, হৃদযন্ত্রের জন্যও ভীষণ উপকারী, এমনই দাবি সাম্প্রতিক এক গবেষণার। গবেষকদের মতে, মাত্র ২ মিনিট স্বতঃস্ফূর্ত হাসি শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যা ২০ মিনিট হালকা দৌড়ানোর মতো উপকার দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রাণখোলা হাসির সময় হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। ফলে শরীরে বেশি অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে তা বিভিন্ন অঙ্গে দ্রুত পৌঁছে যায়। এই প্রক্রিয়া হৃদযন্ত্রকে আরও সক্রিয় করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কারণেই হাসিকে এক ধরনের 'মিনি ওয়ার্কআউট' বলা হয়।
হাসির সময় ডায়াফ্রাম দ্রুত সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হয়। এই নড়াচড়া অনেকটা যোগব্যায়ামের শ্বাসপ্রশ্বাস অনুশীলনের মতো। পাশাপাশি পেটের পেশি, কোমরের পাশের পেশি এবং পেলভিক অংশও সক্রিয় হয়। ফলে শরীরে হালকা ব্যায়ামের মতো প্রভাব পড়ে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাসলে রক্তনালিগুলি শিথিল হয়। এতে রক্তপ্রবাহ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভাল রক্ত সঞ্চালন হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং হার্ট সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা নেয়।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, হাসি কখনওই নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নয়। এতে দৌড়ানো বা শারীরিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় না। তবে হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় হাসি একটি কার্যকর সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে মানসিক চাপ কমাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা হৃদরোগের বড় কারণ। নিয়মিত হাসি স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে এবং মন ভাল রাখে। ফলে হার্টের ঝুঁকিও কমে।
সবমিলিয়ে, প্রতিদিন অল্প সময় হলেও মন খুলে হাসা শরীর ও মনের জন্য উপকারী। পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, মজার সিনেমা দেখা বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে আড্ডা-সবই হতে পারে সুস্থ হৃদযন্ত্রের সহজ উপায়। কারণ বিশেষজ্ঞদের কথায়, হাসি শুধু আনন্দ নয়, এটি হার্টের জন্যও এক প্রাকৃতিক টনিক।
